ভোট মিটতেই স্ট্রংরুম ঘিরে বাড়ছে নজরদারি। সাম্প্রতিক বিতর্কের আবহে এবার নিরাপত্তা আরও জোরদার করল নির্বাচন কমিশন। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্ট্রংরুমের সামনে ২৪ ঘণ্টা উপস্থিত থাকবেন কমিশনের মনোনীত আধিকারিক। লক্ষ্য একটাই—ইভিএম সুরক্ষায় কোনও রকম সন্দেহ বা বিতর্কের অবকাশ না রাখা।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক Manoj Kumar Agarwal জানিয়েছেন, এতদিন যেখানে মূলত পুলিশ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা পাহারায় থাকতেন, সেখানে এখন থেকে রিটার্নিং অফিসার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারের মনোনীত প্রতিনিধি সারাক্ষণ স্ট্রংরুমের সামনে থাকবেন। স্ট্রংরুমে প্রবেশের ক্ষেত্রেও আরও কড়া নিয়ম চালু হচ্ছে—অনুমতি ছাড়া কেউ ঢুকতে পারবেন না।


কী কী নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা?
স্ট্রংরুমের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি জারি করা হচ্ছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনের ১৬৩ ধারাও জারি করা হচ্ছে। যার ফলে নির্দিষ্ট এলাকায় জমায়েত ও চলাচলের উপরও নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এই তিনটি বড় পদক্ষেপের মাধ্যমেই স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে কমিশন।
কেন বাড়ানো হল নিরাপত্তা?
ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই স্ট্রংরুমকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। উত্তর কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল—দুই গণনাকেন্দ্রেই উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূলের তরফে ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’র অভিযোগ তোলা হয়, অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকেও পাল্টা বিক্ষোভ দেখা যায়।
এই ঘটনাগুলির জেরে পরিস্থিতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠায় কমিশন বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ঘিরে যাতে আর কোনও বিতর্ক না তৈরি হয়, সেই লক্ষ্যেই এই কড়া পদক্ষেপ।


সব মিলিয়ে, গণনার আগে প্রশাসন এখন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই এগোতে চাইছে—যাতে ভোটের ফল নিয়ে কোনও প্রশ্ন না ওঠে।







