১৩ বছর পর আবার বদলাতে চলেছে বাংলার প্রশাসনিক মানচিত্র। বিজেপি সরকার গঠনের আগেই মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিং ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন উন্মাদনা। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর নবান্ন ছেড়ে ফের ঐতিহাসিক লালবাড়িতে ফিরতে পারে— এই খবর ছড়াতেই চাঙ্গা হয়ে উঠছে অফিসপাড়া। ফুটপাতের খাবারের দোকান, জুতো পালিশওয়ালা থেকে ছোট ব্যবসায়ী— সকলেই এখন নতুন দিনের আশায় বুক বাঁধছেন।
শনিবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণের আগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কার ও প্রস্তুতির কাজ। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর, মুখ্যসচিব এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের জন্য নতুন করে ঘর সাজানো হচ্ছে। নিরাপত্তাও একধাক্কায় বাড়ানো হয়েছে। লালবাজারের তরফে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে মহাকরণ চত্বরে।


২০১৩ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাইটার্স বিল্ডিং ছেড়ে হাওড়ার নবান্নে প্রশাসনিক সদর দফতর সরিয়ে নিয়েছিলেন। তারপর দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে কার্যত প্রশাসনিক গুরুত্ব হারিয়েছিল ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক এই ভবন। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফের রাইটার্সকে কেন্দ্র করেই সচিবালয় সক্রিয় হওয়ার জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
আর সেই সম্ভাবনাই যেন নতুন প্রাণ ফিরিয়ে দিচ্ছে আশপাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে। রাইটার্স চত্বরে বহু পুরনো খাবারের দোকানের মালিকরা বলছেন, নবান্নে সচিবালয় চলে যাওয়ার পর থেকেই ব্যবসা মার খেয়েছিল। আগে সরকারি দফতর থেকেই নিয়মিত খাবারের অর্ডার আসত। এখন আবার সেই পুরনো দিন ফেরার আশা দেখছেন তাঁরা।
শুধু খাবারের দোকান নয়, রাইটার্সের উল্টো দিকের ফুটপাথেও দেখা যাচ্ছে পুরনো পেশার মানুষের প্রত্যাবর্তন। জুতো পালিশের সরঞ্জাম নিয়ে ইতিমধ্যেই জায়গা দখল করে বসে পড়েছেন কয়েকজন। তাঁদের কথায়, “অফিসার, পুলিশ, বাবুরা ফিরলে আবার কাজ বাড়বে। তাই আগে থেকেই জায়গা নিয়ে বসেছি।”


গত এক দশকে রাইটার্স চত্বরের চেহারাও বদলেছে অনেকটাই। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর ‘মহাকরণ’ স্টেশন চালু হওয়ার পর এলাকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই সুযোগে নতুন করে দোকান ও হকার বসতে শুরু করেছেন।
রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক কেন্দ্র বদলের এই সম্ভাবনা এখন শুধু ক্ষমতার প্রতীক নয়, বহু ছোট ব্যবসায়ীর কাছে নতুন অর্থনৈতিক আশার আলোও হয়ে উঠেছে।







