বাংলায় কি সত্যিই মদ নিষিদ্ধ হচ্ছে? ভাইরাল পোস্ট নিয়ে বড় তথ্য দিল PIB

পশ্চিমবঙ্গে মদ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে বলে ভাইরাল পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য। PIB জানাল, অমিত শাহ এমন কোনও ঘোষণা করেননি, খবরটি সম্পূর্ণ ভুয়ো।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যে সরকার বদলের আবহের মধ্যেই আচমকা ছড়িয়ে পড়ল এক চাঞ্চল্যকর দাবি— পশ্চিমবঙ্গে নাকি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সম্পূর্ণ মদ নিষিদ্ধ হতে চলেছে! সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয় জোর চর্চা। দাবি করা হয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নাকি ঘোষণা করেছেন, বিহারের মতো পশ্চিমবঙ্গকেও ‘ড্রাই স্টেট’ করা হবে। তবে ভাইরাল এই দাবির সত্যতা নিয়ে এবার মুখ খুলল প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো বা PIB।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে বিজেপির সরকার গঠনের প্রস্তুতির মধ্যেই ভাইরাল হয় একটি স্ক্রিনশট। সেখানে দেখা যায়, একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ইংরেজি পোর্টালের আদলে তৈরি ছবিতে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মদ বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেই পোস্ট ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয় জল্পনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, তবে কি সত্যিই বাংলায় মদ নিষিদ্ধ হতে চলেছে?

এই জল্পনার মাঝেই PIB ফ্যাক্ট চেক বিভাগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো। PIB-র তরফে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ ধরনের কোনও ঘোষণা করেননি। পশ্চিমবঙ্গে মদ নিষিদ্ধ করার কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত, আলোচনা বা পরিকল্পনাও হয়নি। ভাইরাল ছবিটি সম্পূর্ণ নকল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে PIB।

PIB

ভাইরাল পোস্ট ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছিল নানা আলোচনা। বিশেষ করে ভোটের আগে ও পরে খাদ্যাভ্যাস, সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছিল। সেই আবহেই এই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। তবে PIB-র তরফে জানানো হয়েছে, বিভ্রান্তিকর ও ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।

এছাড়াও PIB নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের সন্দেহজনক বা ভুয়ো পোস্ট দেখলে তা যাচাই না করে শেয়ার করা উচিত নয়। কোনও তথ্য ভুয়ো বলে সন্দেহ হলে actcheck@pib.gov.in-এ ইমেল করা যেতে পারে। পাশাপাশি +91 8799711259 নম্বরে যোগাযোগ করেও অভিযোগ জানানো সম্ভব।

ভোট-পরবর্তী উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে এই ধরনের ভুয়ো খবর যে আরও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, তা স্পষ্ট। তাই সরকারি সূত্র যাচাই না করে কোনও তথ্য বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।

fake

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত