ব্যারাকপুরের ভোটের ফল প্রকাশের মাত্র চার দিন পরই বড় সিদ্ধান্ত টলিউড পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন তিনি। সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে রাজ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজনৈতিক সফরের ইতি টানছেন তিনি। তাঁর কথায়, “শেষ হলো আমার পথচলা”, আর এবার সম্পূর্ণভাবে সিনেমার জগতেই মন দিতে চান তিনি।
গত ৪ মে ভোটগণনার দিন ব্যারাকপুরের গণনাকেন্দ্রের বাইরে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল রাজকে, তা কার্যত তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মোড় ঘুরিয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও টলিপাড়ার একাংশ। অভিযোগ, ফল প্রকাশের পর কেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময় একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেয়। শুধু তাই নয়, রাজের দিকে কাদা ও চটিও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে তিনি প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া না দিলেও, সেই ঘটনার অভিঘাত যে গভীরভাবে তাঁকে আঘাত করেছিল, তা তাঁর সাম্প্রতিক পোস্ট থেকেই স্পষ্ট।


সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে রাজ চক্রবর্তী লেখেন, ব্যারাকপুরের মানুষের রায় তিনি মাথা পেতে নিয়েছেন এবং গণতন্ত্রে মানুষের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। তবে রাজনীতির পথে চলতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তার পর আর এই জগতে নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। তাঁর বক্তব্য, “২০২৬-এ রাজনীতির ময়দান ছাড়লাম। এই সফরটা ছিল অনেক অভিজ্ঞতার, অনেক চড়াই-উতরাইয়ের। এবার নিজের আসল কাজ, অর্থাৎ সিনেমা তৈরিতেই পুরো সময় দিতে চাই।”
রাজের এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহল যেমন চর্চায় সরব, তেমনই টলিপাড়াতেও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরেই পরিচালনা ও রাজনৈতিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে সমস্যায় পড়ছিলেন রাজ। নির্বাচনী পরাজয় এবং পরবর্তী বিতর্কিত অভিজ্ঞতা সেই সিদ্ধান্তকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
উল্লেখ্য, পরিচালক হিসেবে একাধিক সফল বাংলা ছবি উপহার দিয়েছেন রাজ চক্রবর্তী। পরে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে সক্রিয় ভূমিকা নেন তিনি। তবে এবারের নির্বাচনে ব্যারাকপুর কেন্দ্রের ফলাফল তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে বড় ধাক্কা হয়ে এল বলেই মনে করা হচ্ছে।









