বুধবার রাতের মধ্যমগ্রাম যেন মুহূর্তে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গাড়ি আটকে গুলি করে খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত খুন’ বলে আখ্যা দিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, “নিন্দার কোনও ভাষা নেই”, এবং ভোট-পরবর্তী বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন তিনি।
চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় বৃহস্পতিবার মুখ খুলে সুজন চক্রবর্তী বলেন, এই হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নৃশংস। তাঁর দাবি, যে পদ্ধতিতে হামলা চালানো হয়েছে, তাতে স্পষ্টভাবেই পরিকল্পনার ছাপ রয়েছে। এক যুবককে লক্ষ্য করে এভাবে গুলি চালিয়ে খুন করা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবিও তোলেন সিপিএম নেতা।
সুজন চক্রবর্তী আরও বলেন, “কে কোন রাজনৈতিক দলের, সেটা এখানে বড় বিষয় নয়। একজন মানুষকে ছক কষে হত্যা করা হয়েছে। কেন এই খুন, কারা এর পিছনে, সবটাই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া দরকার।” ভোট মিটলেও বাংলায় রাজনৈতিক হিংসা থামছে না বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের যশোর রোডে ভয়াবহ এই হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলন্ত গাড়ির পথ আটকে দুষ্কৃতীরা পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিতে গুরুতর জখম হন চন্দ্রনাথ রথ এবং তাঁর গাড়ির চালক। দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত চালক এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কে বা কারা এই হামলার পিছনে রয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রাজনৈতিক মহলেও এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।



