ভোটের জল্পনার অবসান! বিধানসভা নয়, এবার টেনিস প্রশাসনের ময়দানে লিয়েন্ডার পেজ

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জল্পনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এবার AITA-র সভাপতি পদে লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছেন লিয়েন্ডার পেজ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে চলছিল নানা জল্পনা। ভোটে কি প্রার্থী হবেন লিয়েন্ডার পেজ (Leander Paes)? নাকি অন্য কোনও বড় দায়িত্বে দেখা যাবে তাঁকে? প্রায় ছ’মাসের অপেক্ষার পর সেই জল্পনার অবসান হতে চলেছে। তবে সরাসরি বিধানসভা নির্বাচনে নয়, এবার ক্রীড়া প্রশাসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন অলিম্পিক পদকজয়ী এই কিংবদন্তি টেনিস তারকা।

চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু (Kiren Rijiju) এবং বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumdar) হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন লিয়েন্ডার। তার আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন (Nitin Nabin)-এর সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন প্রাক্তন টেনিস তারকা।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রচারে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবেই দেখা গিয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা তৈরি হয়, তাঁকে কি নির্বাচনী ময়দানে প্রার্থী করা হবে? শেষ পর্যন্ত বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হননি লিয়েন্ডার।

নির্বাচন শেষ হওয়ার পর অবশ্য নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো ছিল, মোদি সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন ভারতের অন্যতম সফল টেনিস খেলোয়াড়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি।

এর মধ্যেই লিয়েন্ডারের পরবর্তী ইনিংসের ছবি স্পষ্ট হচ্ছে। এবার রাজনীতির ভোট নয়, ক্রীড়া প্রশাসনের নির্বাচনে লড়াই করতে চলেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই গত বছর বেঙ্গল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সভাপতি হয়েছেন লিয়েন্ডার। এবার তাঁর লক্ষ্য আরও বড়।

জানা গিয়েছে, অল ইন্ডিয়া টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের (AITA) সভাপতি পদে লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে Sports Person of Outstanding Merit রোস্টারে অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করেছেন লিয়েন্ডার।

এর পরই বঙ্গ টেনিস সংস্থার তরফে অল ইন্ডিয়া টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পদে তাঁর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নির্বাচনে লিয়েন্ডারের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসছে রোহিত রাজপালের নাম।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর লিয়েন্ডারকে ঘিরে যে দু’টি সম্ভাবনা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছিল, তার একটি ছিল সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ। অন্যটি ছিল তাঁর দীর্ঘ ক্রীড়া অভিজ্ঞতাকে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কাজে লাগানো। আপাতত দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিচ্ছেন কিংবদন্তি টেনিস তারকা।

ভারতের ক্রীড়া পরিকাঠামো ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্ষেত্রে আগামী দিনের পরিকল্পনাতেও লিয়েন্ডারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের জন্য ভারতের প্রস্তুতি এবং ‘মিশন অলিম্পিক ২০৩৬’-এর মতো উদ্যোগের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

২০৩৬ সালের অলিম্পিকে ভারতকে আরও শক্তিশালী পদক-প্রত্যাশী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে ক্রীড়া প্রশাসনের কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে লিয়েন্ডারকে দেখা যেতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে।

তবে সেই সম্ভাবনার আগে সামনে রয়েছে অল ইন্ডিয়া টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন। ফলে বিধানসভা নির্বাচনে লিয়েন্ডারকে দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর আপাতত ভবিষ্যতের জন্য তোলা থাকলেও ক্রীড়া প্রশাসনের ময়দানে তাঁর নতুন লড়াই যে শুরু হয়ে গিয়েছে, তা কার্যত স্পষ্ট।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন