অবশেষে জল্পনার অবসান। কলকাতার নিউ টাউনের এক গোপন বৈঠকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সমীকরণ মঙ্গলবার দিল্লিতে গিয়ে পূর্ণতা পেল। প্রাক্তন টেনিস তারকা Leander Paes আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দিলেন Bharatiya Janata Party-তে। বিজেপির সদর দফতরে পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানালেন—এ বার দেশের জন্য নতুন ইনিংস শুরু।
দিল্লিতে আয়োজিত যোগদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। লিয়েন্ডারকে পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মাটির ছেলে লিয়েন্ডার পেজ়কে বিজেপিতে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা গর্বিত। তাঁর মতো ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের আগমন দলকে নতুন শক্তি দেবে।”
সুকান্ত আরও দাবি করেন, বাংলার সংস্কৃতি ও ক্রীড়া পরিমণ্ডলে লিয়েন্ডারের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর মতে, টেনিসে সাফল্যের মাধ্যমে বহু তরুণ-তরুণীকে অনুপ্রাণিত করেছেন এই তারকা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর এই যোগদান রাজনৈতিক সমীকরণে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
যোগদানের পর নিজের বক্তব্যে লিয়েন্ডার বলেন, “আজ আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। চার দশক দেশের হয়ে খেলেছি, এবার দেশের সেবায় অন্য ভূমিকায় নামলাম। বিজেপি আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছে।” পাশাপাশি দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো নিয়ে আক্ষেপও শোনা যায় তাঁর গলায়। তিনি জানান, টেনিসের উন্নতির জন্য এখনও অনেক কাজ বাকি, বিশেষ করে ইনডোর সুবিধার অভাব রয়েছে।
সূত্রের খবর, এই যোগদানের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল কয়েক মাস ধরেই। প্রায় আট মাস আগে দিল্লিতে বিজেপির সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক যোগাযোগ শুরু হয়। গত সপ্তাহে কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। সেই বৈঠকেই আনুষ্ঠানিক যোগদানের রূপরেখা তৈরি হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক মঞ্চে লিয়েন্ডারের উপস্থিতি নতুন নয়। এর আগে ২০২১ সালে মমতা ব্যানার্জীর-র হাত ধরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে-এ যোগ দিয়েছিলেন। যদিও তৃণমূলের হয়ে তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে খুব একটা দেখা যায়নি।
এ দিন তাঁর বিজেপিতে যোগদানকে ঘিরে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। সমাজমাধ্যমে শাসকদলের তরফে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তায় বলা হয়েছে, বিজেপি নাকি অবশেষে তাদের “পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী” খুঁজে পেয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ‘বহিরাগত’ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে।



