রাজনৈতিক টানাপোড়েন, সাংগঠনিক সংকট এবং দলীয় ভাঙনের জল্পনার মাঝেই সামনে এল তৃণমূল কংগ্রেসের আর্থিক শক্তির ছবি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ আর্থিক সম্পদ রয়েছে দলের হাতে। ব্যাঙ্ক আমানত, ফিক্সড ডিপোজিট এবং নগদ অর্থ মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পদের পরিমাণ নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের।
নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত হিসাব ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট জমা রয়েছে ৬২৫ কোটি ৭৯ লক্ষ ৮৭ হাজার ২৬৪ টাকা। এটি দলের চলতি ও সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থের পরিমাণ।
শুধু ব্যাঙ্ক ব্যালান্সই নয়, দলের নামে বিপুল অঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটও রয়েছে। অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যাঙ্কে তৃণমূল কংগ্রেসের ফিক্সড ডিপোজিটের পরিমাণ ২৫০ কোটি ৭৭ লক্ষ ২৮ হাজার ৩২২ টাকা।
এই দুই অঙ্ক একত্র করলে দেখা যাচ্ছে, ব্যাঙ্কে জমা অর্থ ও ফিক্সড ডিপোজিট মিলিয়ে দলের মোট আর্থিক সম্পদের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৮৭৬ কোটি ৫৭ লক্ষ ১৫ হাজার ৫৮৬ টাকা।
এছাড়াও অডিট রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দলের কাছে প্রায় ৫০ কোটি টাকার চেক রয়েছে, যা এখনও ব্যাঙ্কে জমা বা নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে সামগ্রিক আর্থিক শক্তির অঙ্ক আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
দলের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়গুলিতে নগদ অর্থ হিসেবেও কিছু টাকা রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, নগদ অর্থের পরিমাণ ৩১ লক্ষ ২৮ হাজার ২৮ টাকা।
রাজনৈতিক দলগুলির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতি বছর নির্বাচন কমিশনের কাছে অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই সূত্রেই তৃণমূল কংগ্রেসের আর্থিক অবস্থার এই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ বা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকলেও আর্থিক দিক থেকে তৃণমূল এখনও দেশের অন্যতম শক্তিশালী আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে রয়েছে। বিপুল আর্থিক সঞ্চয় ভবিষ্যতের সাংগঠনিক কার্যক্রম, নির্বাচনী প্রচার এবং দলীয় পরিকাঠামো পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তবে কোনও রাজনৈতিক দলের আর্থিক শক্তির পাশাপাশি সাংগঠনিক ঐক্য, নেতৃত্ব এবং জনসমর্থনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যেও তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।



