নৈহাটি থানার চত্বরে শনিবার সকালেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল যুব নেতা অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভ, ধাক্কাধাক্কি এবং বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে সোদপুরের একটি আবাসন থেকে অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মারধর, শ্লীলতাহানি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ধৃত অভিজিৎ নৈহাটি পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল পুরপ্রধানের ছেলে বলেও জানা গিয়েছে।
শনিবার তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করার জন্য নৈহাটি থানা থেকে বের করে আনা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, থানার বাইরে উপস্থিত একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থক অভিযুক্তকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেওয়া হয় এবং ডিম নিক্ষেপ করা হয়। পাশাপাশি তাঁকে শারীরিকভাবে আক্রমণের চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হয়।
বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, গত বছরের ৮ মে বিজেপি কর্মী কার্ত্তিক ঘোষালের উপর হামলার ঘটনায় অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের নাম উঠে এসেছিল। অভিযোগ, ওই ঘটনায় কার্ত্তিক গুরুতর আহত হন এবং দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এছাড়াও এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগও বিক্ষোভকারীদের তরফে তোলা হয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই তাঁরা প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন বলে দাবি।
তবে এই বিক্ষোভ চলাকালীন থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক-সহ কয়েকজন পুলিশ কর্মী ধাক্কাধাক্কির মুখে পড়েন বলে জানা গিয়েছে। এ বিষয়ে বিজেপি নেতৃত্ব দুঃখপ্রকাশ করেছে এবং পুলিশের সঙ্গে অনভিপ্রেত আচরণ কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেছে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগগুলির তদন্ত চলছে। একইসঙ্গে থানা চত্বরে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার ঘটনাও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।



