বিষপ্রয়োগ নাকি অসুস্থতা? প্রতীক যাদবের মৃত্যুর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে

প্রতীক যাদবের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এল পালমোনারি এম্বোলিজ়মের তথ্য। তবে বিষপ্রয়োগের জল্পনায় বাড়ছে রহস্য।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদবের কনিষ্ঠ পুত্র প্রতীক যাদবের আচমকা মৃত্যু ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হল। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উঠে এসেছে, শরীরে তৈরি হওয়া রক্তের জমাট ফুসফুসে পৌঁছে যাওয়ার জেরেই গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তার ফলেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। তবে এর মাঝেই বিষপ্রয়োগের জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক মহলে। তদন্তকারীরা এখনও ভিসেরা রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন।

প্রতীক যাদব ছিলেন মুলায়ম সিং যাদবের ছোট ছেলে এবং বিজেপি নেত্রী অপর্ণা যাদবের স্বামী।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতীকের শরীরের নীচের অংশে তৈরি হওয়া ব্লাড ক্লট ধীরে ধীরে ফুসফুসের ধমনীতে পৌঁছে যায়। চিকিৎসা পরিভাষায় যাকে পালমোনারি এম্বোলিজ়ম বলা হয়। এই অবস্থায় রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ায় শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কাজ বন্ধ হতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় এবং মৃত্যু ঘটে।

লখনউয়ের চিকিৎসক রুচিতা শর্মা জানিয়েছেন, প্রতীক দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ রক্তচাপ এবং ফুসফুসজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। কয়েক দিন আগেই শ্বাসকষ্টের কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তখন তাঁর শরীরে পালমোনারি এম্বোলিজ়ম ধরা পড়ে এবং ব্লাড থিনার দেওয়া হচ্ছিল।

চিকিৎসকদের দাবি, নিজের শারীরিক সমস্যার বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধও খেতেন।

বুধবার ভোরে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন ৩৮ বছরের প্রতীক। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত লখনউ সিভিল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ভোর ৫টা ৫৫ মিনিট নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।

তবে মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি। ময়নাতদন্তের সময় হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও দেহরস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ভিসেরা রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

এর মধ্যেই বিস্ফোরক দাবি করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা রবিদাস। তাঁর অভিযোগ, প্রতীকের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি বিষপ্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে বিষক্রিয়া সংক্রান্ত কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর