পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি হতেই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় পরিবর্তন দেখা গেল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার কথা ঘোষণা করার পরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর জেরে ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলির সামনে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এই ঘোষণার পরই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এক পর্যায়ে ব্যারেল প্রতি মূল্য ৮৫ ডলারের নিচে নেমে এলেও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রায় ৮৭.৫০ ডলারে স্থিত হয়। তবুও এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মূল্যপতন হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে তার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে থাকবে ভারত। কারণ দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর এবং তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে।
হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডর। এই পথ স্বাভাবিক থাকলে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি আমদানির খরচ কমতে পারে। ফলে দেশের জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা বাড়বে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে ভারতের আমদানি ব্যয় কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ কিছুটা হ্রাস পাবে এবং মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। দীর্ঘমেয়াদে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দামের উপরও।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রায় প্রস্তুত। তাঁর দাবি, ইউরোপের কোনও দেশে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জেনেভা সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কাতারের অনুরোধে সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত পৃথক কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে আসেনি।
যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিলে শুধু পশ্চিম এশিয়াই নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আর সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



