১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ জুলাই-নেতা সজীবের বিরুদ্ধে, মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির

দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইস ব্যাঙ্কে বিপুল সম্পদ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীবের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অস্বীকার করে দুদকের ভূমিকা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (NCP) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (ACC) তাঁর বিরুদ্ধে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া-সহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনে তাঁকেই প্রার্থী করেছে এনসিপি।

অভিযোগের মধ্যে বিদেশে সম্পত্তি কেনা, বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাঙ্কে অর্থ গচ্ছিত রাখার মতো বিষয়ও রয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ এখনও তদন্তের পর্যায়ে এবং আসিফ মাহমুদ নিজে অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছেন। ফলে দুদকের তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের।

অভিযোগ অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদের বিদেশি সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে। পাম জুমেইরাহ এবং বিজনেস বে এলাকায় তাঁর নামে বিলাসবহুল ভিলা ও ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগ সামনে এসেছে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ ও মেরিনা বে এলাকায় দু’টি বড় ট্রেডিং সংস্থায় তাঁর অংশীদারি রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়াতেও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে সিডনি ও মেলবোর্নে একাধিক বাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের ব্যাঙ্কে ছদ্ম সংস্থার মাধ্যমে বিপুল অর্থ জমা রাখার অভিযোগও তদন্তকারী সংস্থার কাছে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই অভিযোগগুলি অবশ্য আসিফ মাহমুদ এতদিন ধরে অস্বীকার করে এসেছেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে অভিযোগ করা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬টি জেলায় ডিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছিল। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রকের অধীনে গ্রামীণ পরিকাঠামো ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে খরচ বাড়িয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে। ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার দিনই আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি। ফলে বিষয়টি ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে একজন তরুণ প্রাক্তন ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে এত বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগ কীভাবে তৈরি হল, তা নিয়েই উঠছে নানা প্রশ্ন।

অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ অবশ্য দুর্নীতি দমন কমিশনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, দুদকের সংস্কার না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি এখনও আগের মতোই ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি অভিযোগের নির্দিষ্ট অঙ্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলে দাবি করেছেন, একেক সময়ে একেক পরিমাণ অর্থ পাচারের কথা বলা হচ্ছে।

ফলে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের এই অভিযোগের সত্যতা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে তদন্তে উঠে আসা নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং বিদেশে থাকা সম্পত্তি ও বিনিয়োগের প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের উপর। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসিফ মাহমুদকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। একই সঙ্গে এত বড় অঙ্কের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন