‘গুন্ডা-মাফিয়াদের সম্পত্তিও রেহাই পাবে না’, বিধানসভায় কড়া বার্তা শুভেন্দুর, তৃণমূলকে নিশানা

বিধানসভায় জিরো টলারেন্স নীতির কথা তুলে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সম্ভাব্য আইনি উদ্যোগের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অনড় থাকার বার্তা ফের দিল রাজ্য সরকার। বিধানসভায় জবাবি ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, শুধু গ্রেফতার নয়, অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও নিলামের জন্যও নতুন আইন আনার প্রস্তুতি চলছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রাজ্যে তোলাবাজি, মাফিয়ারাজ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তিনি জানান, সংগঠিত অপরাধ এবং আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি অধিবেশনেই এমন একটি বিল আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আইনি কাঠামো তৈরি করা হবে। পাশাপাশি সেই সম্পত্তি নিলামের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে।

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজ্যের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছে। সেই সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের মধ্যে বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ও বিতর্কের ইঙ্গিত রয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য নতুন রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি করেছে।

এদিন শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে। তাঁর বক্তব্য, জনস্বার্থ রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়ক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, তোলাবাজি এবং দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতারির ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত সংক্রান্ত নতুন আইন আনার ইঙ্গিত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বিরোধী শিবিরের দাবি, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বদলে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত। অন্যদিকে সরকার বলছে, আইনের চোখে সবাই সমান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনও আপস করা হবে না।

এখন নজর থাকবে প্রস্তাবিত বিলের দিকে। যদি বিধানসভায় সেই আইন পাস হয়, তাহলে রাজ্যে দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর