‘অনুপ্রবেশকারীদের জন্য কোনও জায়গা নেই, যাঁরা পালাতে চান, পালিয়ে যান’, কড়া বার্তা শুভেন্দুর

বিধানসভায় সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈধ ভারতীয়দের উদ্বিগ্ন না হওয়ার বার্তাও দিলেন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ফের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করল রাজ্য সরকার। বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনার জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতিতেই এগোবে প্রশাসন। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই।

মঙ্গলবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, আইন অনুযায়ী যাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্বের বৈধ নথি নেই, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রশাসনের তরফে বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে রাজ্য সরকার।

তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। ধর্ম, ভাষা বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে বৈধ নাগরিকদের সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে যথেষ্ট সহযোগিতা করেনি। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় আসার পর সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্পে গতি আনা হয়েছে এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রয়োজনীয় কাজে জমিও প্রদান করা হয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় বেড়া নির্মাণ এবং নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং রাজ্যের স্বার্থ রক্ষার জন্য কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা জরুরি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নিরাপত্তা দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু। নতুন সরকারের বক্তব্যে স্পষ্ট, এই বিষয়ে তারা আপসহীন নীতিই অনুসরণ করতে চাইছে।

যদিও বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, নাগরিকত্ব এবং অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা প্রয়োজন। অন্যদিকে সরকার বলছে, জাতীয় আইন মেনেই সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সীমান্ত নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব যাচাই এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার বণ্টন— এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক পদক্ষেপ আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন