তৃণমূলের ভাঙনের আবহে আত্মসমালোচনায় সিপিএম, আগস্টে কল্যাণীতে বিশেষ অধিবেশন

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভোটের ফলাফল ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে আগস্টে কল্যাণীতে বিশেষ অধিবেশন ডাকল সিপিএম।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক রণকৌশল নিয়ে গভীর পর্যালোচনায় বসতে চলেছে সিপিএম। আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট কল্যাণীতে ডাকা হয়েছে দলের বিশেষ অধিবেশন। সেখানে দলের রাজনৈতিক অবস্থান, জনভিত্তি পুনর্গঠন এবং আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শাসক শিবিরের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। সেই পরিস্থিতিতে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান কতটা মজবুত করা সম্ভব হয়েছে, তা নিয়েই আত্মসমালোচনার পথে হাঁটছে সিপিএম। বিশেষ অধিবেশনে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে বলে জানা গিয়েছে।

দলের রাজ্য কমিটির বর্ধিত বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি-সহ পলিটব্যুরোর একাধিক সদস্য। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতৃত্বও ওই বৈঠকে অংশ নেবেন। সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সিপিএম নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন গড়ে তোলা হলেও তার প্রতিফলন ভোটবাক্সে প্রত্যাশিত মাত্রায় দেখা যায়নি। জনসমর্থনের হার এখনও সীমিত পরিসরেই রয়েছে। বিশেষ করে একসময় দলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলিতে হারানো ভোটব্যাঙ্ক ফেরানোর চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গিয়েছে।

তবে নির্বাচনের ফলাফলে কিছু ইতিবাচক দিকও দেখছে দল। দীর্ঘ সময় পর বিধানসভায় দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হওয়া এবং কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটের লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি নেতৃত্বের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষত ফলতা কেন্দ্রের ফলাফলকে সাংগঠনিক পুনরুজ্জীবনের সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে খবর, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি আন্দোলনের পথে না গিয়ে ধাপে ধাপে সংগঠন মজবুত করার দিকেই জোর দিতে চাইছে সিপিএম। নতুন সরকারকে কিছুটা সময় দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পক্ষেও দলের একাংশ মত দিয়েছে। সেই কারণেই আগামী দিনের আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচির রূপরেখা নিয়ে বিশেষ অধিবেশনে বিস্তৃত আলোচনা হতে পারে।

এদিকে রাজ্য কমিটির বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে সাংগঠনিক স্তরেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মেঘনাথ ভূঁইয়া এবং যুব নেতা ধ্রুবজ্যোতি চক্রবর্তীকে রাজ্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি ডোমকলের বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানাকে রাজ্য কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির রাজ্য সম্পাদক মোনালিসা সিনহাকেও রাজ্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আগস্টের বিশেষ অধিবেশনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ এই বৈঠক থেকেই আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে সিপিএমের নতুন কৌশল এবং সাংগঠনিক রূপরেখার ইঙ্গিত মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন