অম্বুবাচী নিবৃত্তি শুধু একটি ধর্মীয় পর্বের সমাপ্তি নয়, সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী এটি নতুন সূচনা ও শুভ শক্তিকে আহ্বান করারও সময়। শুক্রবার, ২৬ জুন অম্বুবাচী নিবৃত্তির পর অনেকেই রাশি অনুযায়ী বিশেষ টোটকা পালন করেন। জ্যোতিষশাস্ত্রের মতে, নিজের রাশি অনুসারে কিছু সহজ উপায় মেনে চললে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হতে পারে এবং জীবনের নানা বাধা কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা মিলতে পারে।
অম্বুবাচীর তিন দিন ধরে বহু পরিবারে মাঙ্গলিক কাজ, নতুন উদ্যোগ কিংবা বিশেষ পুজো বন্ধ রাখা হয়। নিবৃত্তির পর সেই বিধিনিষেধ উঠে যায়। এই সময় থেকেই অনেকেই রাশি অনুযায়ী শুভ কাজ ও ছোট ছোট টোটকা পালন করেন।
মেষ
মেষ রাশির জাতক-জাতিকারা অম্বুবাচী নিবৃত্তির পর সূর্যদেবকে জল অর্পণ করতে পারেন। লাল ফুল দিয়ে প্রণাম করলে আত্মবিশ্বাস ও কর্মশক্তি বৃদ্ধির বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে।
বৃষ
শুক্রের কৃপা লাভের আশায় সাদা ফুল অর্পণ করুন। কোনও অভাবী মানুষকে দুধ, মিষ্টি বা সাদা খাদ্যসামগ্রী দান করাও শুভ বলে মনে করা হয়।
মিথুন
বুধের শুভ প্রভাবের জন্য সবুজ রঙের কোনও বস্তু সঙ্গে রাখতে পারেন। শিক্ষাসামগ্রী বা খাতা-কলম দান করলে শুভ ফলের বিশ্বাস রয়েছে।
কর্কট
চন্দ্রের আশীর্বাদ কামনায় সাদা ফুল নিবেদন করুন। বাড়ির ঠাকুরঘর পরিষ্কার করে গঙ্গাজল ছিটিয়ে নিত্যপুজো শুরু করাও শুভ বলে মনে করা হয়।
সিংহ
অম্বুবাচী নিবৃত্তির দিন সূর্যদেবকে অর্ঘ্য নিবেদন করুন। গুড় বা গম দান করলে শুভ ফল লাভের প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে।
কন্যা
সবুজ রঙের পোশাক বা রুমাল ব্যবহার করতে পারেন। দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করার আগে ঈষ্টদেবতার স্মরণ করলে মনোসংযোগ বাড়তে পারে।
তুলা
শুক্রের কৃপা কামনায় সাদা বা গোলাপি ফুল দিয়ে পুজো করুন। পরিবারের প্রবীণদের আশীর্বাদ নেওয়াও শুভ বলে বিবেচিত হয়।
বৃশ্চিক
মঙ্গলকে শক্তিশালী করতে লাল ফুল নিবেদন করতে পারেন। সামর্থ্য অনুযায়ী মসুর ডাল বা লাল ফল দান করারও প্রচলন রয়েছে।
ধনু
বৃহস্পতির আশীর্বাদ কামনায় হলুদ ফুল বা কলা নিবেদন করুন। ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ বা গুরুজনকে প্রণাম করাও শুভ বলে মনে করা হয়।
মকর
শনির শুভ প্রভাবের জন্য কালো তিল বা উড়দ ডাল দান করতে পারেন। প্রবীণ বা অসহায় ব্যক্তিকে সাহায্য করলে মানসিক শান্তি লাভের বিশ্বাস রয়েছে।
কুম্ভ
গাছে জল দেওয়া বা পরিবেশ রক্ষায় ছোট উদ্যোগ নেওয়া কুম্ভ রাশির জন্য শুভ বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। নীল রঙের ব্যবহারও ইতিবাচক বলে মনে করা হয়।
মীন
হলুদ ফুল দিয়ে ঈষ্টদেবতার পুজো করুন। সামর্থ্য অনুযায়ী কলা বা ছোলার ডাল দান করলে শুভ শক্তির সঞ্চার হতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়।
অম্বুবাচী নিবৃত্তির পর এই ধরনের টোটকাগুলি মূলত জ্যোতিষশাস্ত্র, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং লোকাচারের অংশ। অঞ্চল ও পারিবারিক রীতিভেদে নিয়মে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। তাই নিজের বিশ্বাস ও পারিবারিক প্রথাকে গুরুত্ব দিয়েই এগুলি পালন করা উচিত।
🔗 সম্পর্কিত প্রতিবেদন
-
- অম্বুবাচী নিবৃত্তির সঠিক সময় কখন? কী বলছে বেণীমাধব শীলের ফুল পঞ্জিকা, জেনে নিন নিয়ম ও সতর্কতা
- অম্বুবাচী শেষ হলেই কী করবেন? তুলসী, ঠাকুরঘর ও গৃহশুদ্ধির সম্পূর্ণ নিয়ম জানুন
- অম্বুবাচী কী? কেন ৩ দিন মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে? জানুন এর ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
- অম্বুবাচী সময় সূচি ২০২৬, কী বলছে বেণীমাধব শীলের ফুল পঞ্জিকা
- অম্বুবাচীর ৩ দিন কী কী করা নিষেধ? শাস্ত্র ও লোকবিশ্বাস কী বলছে
- অম্বুবাচীতে চুল, নখ কাটলে কী হয়? প্রচলিত বিশ্বাস কতটা সত্য, জানুন বিস্তারিত
- অম্বুবাচী মেলা: ঋতুস্রাব হলে মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ, তবে কামাখ্যায় কেন দেবীর ‘মাসিক’ উৎসব?








