হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী বছরে ১২টি অমাবস্যা থাকলেও, মাঘ মাসের মৌনী অমাবস্যা আলাদা গুরুত্ব বহন করে। সাধনা, সংযম ও আত্মশুদ্ধির এই তিথি প্রাচীনকাল থেকেই ঋষি-মুনিদের কাছে বিশেষ বলে বিবেচিত। ২০২৬ সালে মৌনী অমাবস্যা পড়েছে ১৮ জানুয়ারি, রবিবার—আর এই দিনেই তৈরি হচ্ছে এমন কিছু বিরল যোগ, যা প্রায় ২০০ বছর পর আবার দেখা যাচ্ছে বলে জ্যোতিষশাস্ত্রের ব্যাখ্যা।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিথিতে গঙ্গাস্নান, মৌনব্রত ও শিব আরাধনা করলে সাধারণ দিনের তুলনায় বহু গুণ বেশি পুণ্য লাভ হয়। জ্যোতিষীদের মতে, এ বছর মৌনী অমাবস্যা শুধু তিথিগত দিক থেকেই নয়, যোগ-নক্ষত্রের কারণেও অত্যন্ত শক্তিশালী।


হরিদ্বারের প্রখ্যাত ধর্মীয় ব্যাখ্যাকার পণ্ডিত শ্রীধর শাস্ত্রী-র মতে, মৌনী অমাবস্যা সব অমাবস্যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই দিনে করা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ফল অমৃতসমান। বিশেষ করে ব্রহ্ম মুহূর্তে স্নান ও উপাসনা করলে আধ্যাত্মিক উন্নতির পথ প্রশস্ত হয়।
কেন ২০২৬-এর মৌনী অমাবস্যা এত বিশেষ?
এই বছর মৌনী অমাবস্যায় একসঙ্গে তৈরি হচ্ছে—
-
সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ
-
সিদ্ধি যোগ
-
পূর্বাষাঢ় ও উত্তরাষাঢ় নক্ষত্রের প্রভাব
-
শিববাস যোগ
এই সব যোগ একত্রে থাকায় দিনটি অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হচ্ছে। ধর্মীয় গ্রন্থ অনুসারে, এই সময়ে করা সাধনা বহুদিনের অমীমাংসিত কাজ ও মানসিক অশান্তি দূর করতে সহায়ক।
গোপনে এই ৩ কাজ করলে মিলতে পারে শিবের বিশেষ কৃপা
১. ব্রহ্ম মুহূর্তে স্নান ও উপবাস
ভোরে ঘুম থেকে উঠে গঙ্গা বা শুদ্ধ জলে স্নান করে উপবাসের সংকল্প নিন। এটি শরীর ও মনের শুদ্ধিতে সহায়ক।
-
পঞ্চাক্ষর মন্ত্র জপ
‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্রটি অন্তত ১০৮ বার জপ করুন। এই দিনে এই মন্ত্র জপ করলে মানসিক শান্তি ও আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। -
শিব অভিষেক ও মৌনব্রত
গঙ্গাজল, দুধ, দই, মধু ও বেলপাতা দিয়ে শিবলিঙ্গে অভিষেক করুন। সম্ভব হলে কিছু সময় মৌনব্রত পালন করুন—এতে সাধনার ফল বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
মাঘ মাস ভগবান শিবের জন্য বিশেষভাবে নিবেদিত। তাই এই মাসের অমাবস্যায় শিব আরাধনা করলে জীবনের বাধা-বিপত্তি কাটে এবং স্থায়ী সুখ-সমৃদ্ধির পথ খুলে যায় বলে বিশ্বাস।
মৌনী অমাবস্যার দিনে হরিদ্বার-সহ বিভিন্ন তীর্থে বিপুল ভক্তসমাগম তারই প্রমাণ—এই তিথি কেবল ধর্মীয় নয়, আত্মিক উন্নতিরও এক মহাসুযোগ।









