অম্বুবাচী শেষ হলেই কী করবেন? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে প্রতি বছরই বহু মানুষ খোঁজ করেন। সনাতন ধর্মে অম্বুবাচী নিবৃত্তির পর গৃহশুদ্ধি, তুলসী পুজো এবং ঠাকুরঘরের নিত্যপুজো পুনরায় শুরু করার বিশেষ রীতি রয়েছে। শাস্ত্র ও লোকাচার অনুযায়ী, এই সময় কিছু নিয়ম মেনে চললে নতুন সূচনার পথ আরও শুভ হয়ে ওঠে।
অম্বুবাচী পর্বে ধরিত্রী মাতাকে ঋতুমতী রূপে কল্পনা করা হয়। এই কয়েক দিন বহু পরিবারে মাঙ্গলিক কাজ বন্ধ থাকে, ঠাকুরঘরের মাতৃমূর্তি আবৃত রাখা হয় এবং নিত্যপুজোও সীমিতভাবে পালন করা হয়। নিবৃত্তির পর সেই সমস্ত বিধিনিষেধ উঠে যায় এবং শুরু হয় শুদ্ধিকরণের পর্ব।
অম্বুবাচী নিবৃত্তির পর প্রথমে কী করবেন?
অম্বুবাচী শেষ হওয়ার পর দিনের শুরুতেই বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার রীতি রয়েছে। অনেক পরিবারে প্রথমেই ঘরের পরিবেশ শুদ্ধ করে তারপর ধর্মীয় কাজ শুরু করা হয়।
ঘরের মেঝে পরিষ্কার করা, জানলা-দরজা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং প্রয়োজন হলে গঙ্গাজল বা পবিত্র জল ছিটিয়ে পরিবেশ শুদ্ধ করার প্রচলন বহু জায়গায় দেখা যায়।

তুলসী গাছের পুজো কীভাবে শুরু করবেন?
অম্বুবাচীর সময় অনেক বাড়িতে তুলসী গাছে নিয়মিত পুজো বা প্রদীপ জ্বালানো বন্ধ রাখা হয়। নিবৃত্তির পর আবার তুলসী তলায় জল দেওয়া, প্রদীপ জ্বালানো এবং প্রণাম করার রীতি শুরু হয়।
তুলসী গাছ পরিষ্কার করে তার চারপাশে জল ছিটিয়ে শুদ্ধ করার পর ভক্তিভরে প্রদীপ জ্বালানো হয়। অনেক পরিবারে এই দিন থেকেই তুলসী পাতা ধর্মীয় কাজে ব্যবহারও শুরু হয়।
ঠাকুরঘর কীভাবে শুদ্ধ করবেন?
অম্বুবাচী চলাকালীন অনেক বাড়িতে দেবদেবীর মূর্তি বা ছবির উপর কাপড় দিয়ে আবৃত রাখার রীতি রয়েছে। নিবৃত্তির পর স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরে ঠাকুরঘর পরিষ্কার করা হয়।
এরপর দেবদেবীর আসন পরিষ্কার করে কাপড় সরিয়ে ধূপ, প্রদীপ ও ফুল দিয়ে নিত্যপুজো পুনরায় শুরু করা হয়। অনেকেই গঙ্গাজল ছিটিয়ে ঠাকুরঘর শুদ্ধ করার পর মন্ত্রপাঠ বা প্রার্থনা করেন।
গৃহশুদ্ধির নিয়ম কী?
শুধু ঠাকুরঘর নয়, অম্বুবাচী নিবৃত্তির পর গোটা বাড়ি পরিষ্কার করারও প্রচলন রয়েছে। ব্যবহৃত বিছানার চাদর, বালিশের কভার এবং পোশাক ধুয়ে নেওয়ার রীতি বহু পরিবারে এখনও পালন করা হয়।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশের মধ্য দিয়েই নতুন করে দৈনন্দিন জীবন শুরু করার বার্তা দেওয়া হয়। শুদ্ধতার এই ধারণাই অম্বুবাচী-পরবর্তী আচারগুলির অন্যতম ভিত্তি।
কোন কোন কাজ আবার শুরু করা যায়?
অম্বুবাচী নিবৃত্তির পর ধর্মীয় ও সামাজিক নানা শুভ কাজ পুনরায় শুরু করা যায় বলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। কৃষিকাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানও এই সময় থেকে আবার করা হয়।
- চাষাবাদ
- গৃহপ্রবেশ
- বিবাহ
- অন্নপ্রাশন
- উপনয়ন
- নতুন ব্যবসা শুরু
- জমি বা বাড়ি সংক্রান্ত শুভ কাজ
কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখা জরুরি?
অম্বুবাচী-পরবর্তী নিয়ম পালনের ক্ষেত্রে পারিবারিক রীতি ও আঞ্চলিক প্রথার গুরুত্ব রয়েছে। তাই কোনও নিয়ম পালন করার আগে নিজের পরিবারে প্রচলিত নিয়ম জানাই শ্রেয়।
একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, এই সমস্ত আচার ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকাচারের অংশ। বিভিন্ন অঞ্চল ও পরিবারের মধ্যে নিয়মে কিছু পার্থক্য থাকতেই পারে।
অম্বুবাচী নিবৃত্তির মাধ্যমে শুধু একটি ধর্মীয় পর্বের সমাপ্তিই নয়, নতুন সূচনা, শুদ্ধতা এবং শুভ শক্তিকে আহ্বান করার একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও বহন করে। তাই নিজের বিশ্বাস ও পারিবারিক প্রথা মেনে এই দিনটি পালন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
🔗 সম্পর্কিত প্রতিবেদন
-
- অম্বুবাচী নিবৃত্তির সঠিক সময় কখন? কী বলছে বেণীমাধব শীলের ফুল পঞ্জিকা, জেনে নিন নিয়ম ও সতর্কতা
- শুক্রবার অম্বুবাচী নিবৃত্তি, ১২ রাশির জন্য রইল বিশেষ টোটকা, শাস্ত্র মতে বাড়তে পারে শুভ ফল
- অম্বুবাচী কী? কেন ৩ দিন মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে? জানুন এর ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
- অম্বুবাচী সময় সূচি ২০২৬, কী বলছে বেণীমাধব শীলের ফুল পঞ্জিকা
- অম্বুবাচী ২০২৬ শুরু ২২ জুন থেকে! কখন লাগবে অশৌচ, জেনে নিন কলকাতা ও বাংলাদেশের নির্ভুল সময়সূচি
- অম্বুবাচীর ৩ দিন কী কী করা নিষেধ? শাস্ত্র ও লোকবিশ্বাস কী বলছে
- অম্বুবাচীতে চুল, নখ কাটলে কী হয়? প্রচলিত বিশ্বাস কতটা সত্য, জানুন বিস্তারিত
- অম্বুবাচী মেলা: ঋতুস্রাব হলে মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ, তবে কামাখ্যায় কেন দেবীর ‘মাসিক’ উৎসব?







