ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত অভিযোগে নতুন করে আইনি চাপে পড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক অভিযোগ জমা পড়েছে।
অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন বিজেপি নেতা অশোক বর্মন এবং এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্ণধার প্রবীর হালদার। তাঁদের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় তাঁরা আক্রান্ত হয়েছিলেন। অভিযোগের সঙ্গে সেই সময়কার কিছু ভিডিও ও নথিও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রবীর হালদারের অভিযোগ, করোনা মহামারির সময় তিনি অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করছিলেন। সেই সময় তাঁকে ত্রাণ সামগ্রী অন্যদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, একদল দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালায়, পরিবারের সদস্যদের মারধর করে এবং তাঁকেও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। এমনকি থানায় অভিযোগ না করার জন্য হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। পরে অভিযোগ জানাতে গেলে কোনও পদক্ষেপ হয়নি বলেও তাঁর অভিযোগ।
অন্যদিকে, তৎকালীন বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি অশোক বর্মনের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁর বাড়িতেও হামলা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেছেন, হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তাঁকে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে প্রায় এক বছর এলাকা ছেড়ে থাকতে বাধ্য হন।
অশোক বর্মনের আরও দাবি, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ পাওয়ায় তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এই দুই অভিযোগে মোট ২২ জন এবং ১১ জনের বিরুদ্ধে নাম উল্লেখ করে অভিযোগ জমা পড়েছে বলে সূত্রের খবর। অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুমিত রায়ের নামও রয়েছে। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগপত্র এবং জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযোগকারীদেরও তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য বলা হয়েছে।
রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পুরনো অভিযোগগুলির পুনরুজ্জীবন রাজনৈতিক মহলেও চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রয়েছে।









