বাজেটের ইতিবাচক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নির্দেশ, বিধায়কদের কড়া বার্তা শুভেন্দু-শমীকের

ডিম নিক্ষেপ থেকে পার্টি অফিস দখল— বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর পরামর্শ বিজেপি নেতৃত্বের। জনমুখী বাজেটের সুফল তুলে ধরতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিধায়কদের বিশেষ নির্দেশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্য বাজেটকে কেন্দ্র করে ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিল বিজেপি নেতৃত্ব। দলের বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত বিশেষ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট বার্তা দেন, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ ও বাজেটের ইতিবাচক দিক সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, বিরোধী শাসনের সমালোচনার পরিবর্তে বর্তমান সরকারের জনমুখী পদক্ষেপ এবং বাজেট ঘোষণাগুলিকে বেশি করে মানুষের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, মহার্ঘভাতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বিষয়গুলি নিয়ে প্রচারে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান ১৮ শতাংশ মহার্ঘভাতার সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ যুক্ত করার ঘোষণা করা হয়েছে বাজেটে। ফলে মোট ডিএ-র হার দাঁড়াবে ৩৮ শতাংশ। আগামী ১ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হওয়ার কথা। পাশাপাশি এক লক্ষ নতুন চাকরির প্রতিশ্রুতিও বাজেটে রয়েছে বলে নেতারা বিধায়কদের স্মরণ করিয়ে দেন।

বিজেপি নেতৃত্বের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তগুলি সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই রাজনৈতিক সংঘাত বা উত্তেজনার বদলে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই দলের কর্মসূচি হওয়া উচিত।

একইসঙ্গে বৈঠকে কড়া সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। কোথাও যাতে তোলাবাজি, প্রভাব খাটানো বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ না ওঠে, সে বিষয়ে বিধায়কদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ডিম নিক্ষেপ, পার্টি অফিস দখল বা বিতর্ক তৈরি করতে পারে এমন কোনও পদক্ষেপকে দল সমর্থন করে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ও বুধবার টানা দু’দিন ধরে বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার-এ বিজেপির বিধায়কদের নিয়ে এই বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য ছাড়াও সুকান্ত মজুমদার, সুনীল বনসল, অমিত মালব্য এবং অমিতাভ চক্রবর্তী-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা।

সূত্রের খবর, প্রথমবার নির্বাচিত হওয়া বিধায়কদের সংখ্যাই বেশি হওয়ায় তাঁদের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব সম্পর্কে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব ও কর্তব্য, দল এবং সরকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা এবং দলের শৃঙ্খলা মেনে চলার মতো বিষয়গুলিতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকার গঠনের পর বিধায়কদের জন্য এই ধরনের প্রশিক্ষণমূলক বৈঠক ভবিষ্যতের সাংগঠনিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি সরকারের সাফল্যকে রাজনৈতিকভাবে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার রূপরেখাও এই বৈঠকে স্পষ্ট হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন