তামান্না হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বেড়ে ১৬, গুরগাঁও থেকেও ধরা অভিযুক্ত; কড়া বার্তা শুভেন্দুর

তামান্না খুনের তদন্তে জোরদার অভিযান পুলিশের। ভিন রাজ্য থেকে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, মোট ধৃত ১৬। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কালীগঞ্জের তামান্না হত্যা মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি। গত দু’দিনে টানা অভিযানে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর ফলে এই মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের খোঁজেও অভিযান চলছে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার জিয়ারুল শেখ ও সাবির শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বুধবার আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ফকর শেখ ওরফে ইসমাইল শেখ, হাফিজুল শেখ এবং মিনারুল শেখ। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, মিনারুলকে হরিয়ানার গুরগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করেছে তদন্তকারী দল।

পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গুরগাঁও আদালতে মিনারুলের ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। এরপর তাঁকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলার জাল আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে একের পর এক গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধই হবে বিচার্যের একমাত্র ভিত্তি। অপরাধী যে-ই হোক, আইনের চোখে সকলের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নিহত নাবালিকা তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন-এর সঙ্গে সাক্ষাতের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই দ্রুত পদক্ষেপের জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— আইন নিজের পথেই চলবে, অপরাধীদের কোনও ধরনের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিধানসভাতেও তামান্না হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তামান্নার পরিবার বিচার পাবে। রামপুরহাট, হাঁসখালি, কসবা ল কলেজ, কামদুনি ও ধূপগুড়ির মতো সংবেদনশীল ঘটনার ক্ষেত্রে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এরপরই তামান্নার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ছোট্ট মেয়েটির মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই সাক্ষাতের পর থেকেই তদন্তে গতি আসে এবং শুরু হয় ধারাবাহিক ধরপাকড় অভিযান।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন কালীগঞ্জে বোমাবাজির ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল নাবালিকা তামান্নার। ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও মেয়ের বিচার চেয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর মা সাবিনা ইয়াসমিন। সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারির পর পরিবারে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন