সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগে বড়সড় যাচাই অভিযান, ৯০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট চাইল স্বরাষ্ট্র দফতর

সিভিক ভলান্টিয়ারদের যোগ্যতা, গত দুই বছরের কাজের রেকর্ড এবং নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুরু হচ্ছে বিশেষ যাচাই।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল সরকার। যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা, নিয়োগের স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব— সবকিছু খতিয়ে দেখতে ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। নতুন এই পদক্ষেপকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরানোর বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের নিয়োগ এবং বদলির নথি নতুন করে পরীক্ষা করা হবে। বিশেষ করে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক সুপারিশ বা প্রভাব খাটানো হয়েছিল কি না, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ বা বদলির অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র নিয়োগ প্রক্রিয়া নয়, গত দুই বছরে প্রত্যেক সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজের রেকর্ডও মূল্যায়ন করা হবে। কর্মস্থলে উপস্থিতি, দায়িত্ব পালন এবং সামগ্রিক কর্মদক্ষতার উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এই প্রসঙ্গে রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর দাবি, অতীতে বহু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ করা হয়েছিল। ফলে কারা প্রকৃতপক্ষে কাজ করছেন এবং কারা শুধুমাত্র তালিকায় নাম রেখে সুবিধা পাচ্ছেন, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, একাধিক দফতরে প্রয়োজনের তুলনায় বহু বেশি কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে কর্মীরা নিয়মিত কাজে যোগ না দিয়েও তালিকাভুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ। তিনি বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের করের টাকা থেকে আসে, তাই কর্মী নিয়োগ এবং কাজের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দফতরে অতিরিক্ত কর্মী চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন কাজে অনুপস্থিত থাকা কর্মীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিট সিস্টেমের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী নিয়োগের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বাজেট অধিবেশনের পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে বড়সড় পর্যালোচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই ব্যবস্থার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ঢুকে পড়েছে এবং সেই কারণেই পূর্ণাঙ্গ ঝাড়াই-বাছাই প্রয়োজন।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিভিক ভলান্টিয়ার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। পাশাপাশি প্রকৃত কর্মীদের চিহ্নিত করে প্রশাসনিক দক্ষতাও উন্নত করা সম্ভব হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন