রাজ্যের নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৬ জুলাই রাজ্য সরকারি ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব সামনে এসেছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে স্মৃতিবিজড়িত এলাকাগুলিতে একাধিক কর্মসূচি ও উন্নয়ন প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী ১৫ দিন রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হবে। ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’ নামে এই উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁর জীবন, কর্ম এবং জাতীয় চিন্তাধারার সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি সংরক্ষণে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন। এর মধ্যে অন্যতম হল তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে ৬ জুলাই সরকারি ছুটি পালনের প্রস্তাব।
শুধু তাই নয়, শ্যামাপ্রসাদের পৈতৃক ভিটে এবং ঐতিহাসিক স্মৃতিবাহী স্থানগুলির উন্নয়নের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণাও করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে হুগলির বলাগড় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, শ্যামাপ্রসাদের পরিবার এবং বিশেষ করে তাঁর বাবা আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-এর অবদান এই অঞ্চলের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
এদিকে বাজেটে আইনশৃঙ্খলা এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো তোলাবাজি, সিন্ডিকেট চক্র এবং বেআইনি অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে নতুন আইন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের দাবি, শিল্প ও বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে গেলে ব্যবসায়ীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সেই লক্ষ্যেই তোলাবাজি রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন আইন কার্যকর হলে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা আরও সুরক্ষা পাবেন বলে আশা করছে প্রশাসন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-ও জানিয়েছেন, রাজ্যে বৃহৎ বিনিয়োগ আনতে হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার উপর জোর দেওয়া হবে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এটি ছিল বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শিল্পমহল— সকলেরই প্রত্যাশা ছিল বেশি। সরকারি ছুটি, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের স্মৃতি সংরক্ষণ, শিল্পোন্নয়ন এবং তোলাবাজি রোধে নতুন আইনের মতো একাধিক ঘোষণার মাধ্যমে সেই প্রত্যাশা পূরণের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে সরকার।
আগামী দিনে এই ঘোষণাগুলির বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের।



