মিড-ডে মিল প্রকল্পে ইসকনের অংশগ্রহণ ঘিরে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে বিতর্কের মাঝেই মুখ খুললেন রাজ্যের স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী। ডিম বাদ দিয়ে নিরামিষ খাবার পরিবেশন করলে পড়ুয়াদের পুষ্টির ঘাটতি হবে— এমন দাবি সরাসরি খারিজ করে দিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পুষ্টি শুধু ডিম থেকেই আসে না, নিরামিষ খাদ্য থেকেও প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ পাওয়া সম্ভব।
রাজ্য বাজেটে কলকাতা পুর এলাকার স্কুলগুলিতে পরীক্ষামূলকভাবে মিড-ডে মিল পরিষেবার দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, এর ফলে স্কুলের মধ্যাহ্নভোজে নিরামিষ খাবারের প্রাধান্য বাড়তে পারে এবং ডিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান বাদ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দীপক বর্মন বলেন, বিশ্বের বহু মানুষ নিরামিষ খাবার খেয়েই সুস্থভাবে জীবনযাপন করেন। তাঁর মতে, ডিমকে একমাত্র পুষ্টির উৎস হিসেবে দেখাটা ঠিক নয়। সুষম নিরামিষ খাদ্য থেকেও শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া সম্ভব।
বর্তমানে বহু সরকারি স্কুলে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে ডিম পরিবেশন করা হয়। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুদের জন্য মিড-ডে মিলের ডিম গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস। অনেক পড়ুয়াই সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে ডিম পাওয়ার অপেক্ষায় থাকে বলেও মত শিক্ষকদের।
তবে রাজ্য সরকারের অবস্থান, আপাতত কলকাতায় এটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবেই চালু করা হবে। প্রকল্পের ফলাফল ইতিবাচক হলে ভবিষ্যতে অন্য এলাকাতেও তা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। স্কুলশিক্ষা মন্ত্রীও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে, মিড-ডে মিল প্রকল্পে ইসকনের অংশগ্রহণ নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করে। বর্তমানে বহু স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং মহিলা রাঁধুনি এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের আশঙ্কা, কেন্দ্রীয়ভাবে খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহের ব্যবস্থা চালু হলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যেতে পারে।
এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সরকার ইতিমধ্যেই বাজেটে রাঁধুনিদের ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর যদি কোনও বাস্তব সমস্যা সামনে আসে, তাহলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ খোঁজা হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মিড-ডে মিল প্রকল্পের কেন্দ্রীয় নাম ‘পিএম পোষণ’ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতার স্কুলগুলিতে উন্নতমানের খাবার সরবরাহের লক্ষ্যে ইসকনের সহযোগিতা নেওয়ার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, খাবারের গুণমান উন্নত করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
মিড-ডে মিলে ডিম বনাম নিরামিষ খাবার বিতর্ক এখন শুধু খাদ্যাভ্যাসের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুষ্টি, শিক্ষানীতি, কর্মসংস্থান এবং সরকারি প্রকল্প পরিচালনার মডেল সম্পর্কিত বৃহত্তর আলোচনা। আগামী দিনে পাইলট প্রকল্পের বাস্তব ফলাফলই এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।



