রাজ্য বাজেটে মিড ডে মিল প্রকল্পে নতুন উদ্যোগের ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কলকাতার স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের জন্য আরও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের লক্ষ্যে ইসকনের সহযোগিতা নেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে সিপিআইএম। তাদের দাবি, মিড ডে মিল একটি সরকারি প্রকল্প, সেখানে বেসরকারি ধর্মীয় সংগঠনকে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট নয়।
সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেন, কলকাতা পুরনিগম এলাকার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল পরিষেবাকে আরও উন্নত করতে ইসকনের সহায়তা নেওয়া হবে। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প চালু করা হবে।
এই ঘোষণার পরই আপত্তি জানায় সিপিআইএম। দলের পক্ষ থেকে বাজেট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অর্থনীতিবিদ ইশিতা মুখোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, দেশজুড়ে চালু থাকা একটি সরকারি প্রকল্পে কেন ইসকনের মতো একটি ধর্মীয় সংগঠনকে যুক্ত করা হচ্ছে। তাঁর মতে, মিড ডে মিল শিক্ষার্থীদের অধিকারভিত্তিক একটি সরকারি প্রকল্প এবং এর বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত কোনও সংস্থার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করা উচিত।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসকন। ISKCON-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মুখপাত্র রাধারমণ দত্ত বলেন, কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল পরিবেশনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। তাঁর দাবি, ইসকনের অন্নামৃত ফাউন্ডেশন বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি স্কুলের লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর কাছে প্রতিদিন পুষ্টিকর ও গরম খাবার পৌঁছে দেয়।
ইসকনের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের আধুনিক রান্নাঘরে উচ্চমানের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয় এবং প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের জন্য গরম ও নিরামিষ খাবার প্রস্তুত করা হয়। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই কলকাতার স্কুলগুলিতেও উন্নতমানের খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংস্থার দাবি।
এদিকে বাজেটে মিড ডে মিল প্রকল্পে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধার ঘোষণাও করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিল বাবদ মাথাপিছু দৈনিক বরাদ্দ ১০ টাকা করা হবে। এর ফলে পড়ুয়াদের খাবারের মান উন্নত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে সরকার।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র খাবারের মান উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সরকারি প্রকল্পে বেসরকারি বা ধর্মীয় সংগঠনের অংশগ্রহণ কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। ফলে আগামী দিনে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সরকারের দাবি, শিক্ষার্থীদের পুষ্টির মান বৃদ্ধি এবং উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে বিরোধীদের বক্তব্য, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নীতিগত বিষয়গুলিও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত। ফলে মিড ডে মিলে ইসকনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আপাতত থামার কোনও লক্ষণ নেই।



