‘বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি হতে পারে’, সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলীপ ঘোষের

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের বাজেটে সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের বরাদ্দ কমানোকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। এই আবহে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মন্তব্য করে নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

সোমবার পেশ হওয়া রাজ্য বাজেটে সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। নতুন অর্থবর্ষে এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২,১৬৫.৪২ কোটি টাকা। আগের তুলনায় প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা কম বরাদ্দ হওয়ায় বিরোধী শিবিরের একাংশ সরব হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ বলেন, সরকার কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য নয়, বরং রাজ্যের সমস্ত মানুষের জন্য কাজ করছে। তাঁর দাবি, ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতিতেই সরকার পরিচালিত হচ্ছে এবং উন্নয়নের সুবিধা সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশে সতর্কবার্তাও দেন। তাঁর বক্তব্য, দুর্নীতি বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।

অন্যদিকে, বাজেটে সংখ্যালঘু উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতের বরাদ্দ প্রায় অর্ধেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। তাদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে বাজেট নিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। সরাসরি বিরোধিতা না করলেও একাধিক প্রশ্ন তুলেছে তারা। কুণাল ঘোষ বলেন, নতুন সরকারকে কাজ করার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া উচিত। তবে বাজেটে ব্যয়ের পরিকল্পনা থাকলেও রাজস্ব আয়ের সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই বলেও তাঁর দাবি।

কুণাল আরও বলেন, রাজ্যে বর্তমানে যে একাধিক প্রকল্প ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, তার অনেকটাই পূর্ববর্তী সরকারের আমলে শুরু হয়েছিল। পাশাপাশি কয়েকটি প্রকল্পে উপভোক্তার সংখ্যা কমানোর সম্ভাবনার দিকেও ইঙ্গিত করেন তিনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাজেটকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু উন্নয়ন, সরকারি বরাদ্দ এবং উন্নয়ন নীতির প্রশ্নে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক যে আরও বাড়বে, তার ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট।

এখন নজর থাকবে বাজেটের বিভিন্ন ঘোষণার বাস্তবায়ন এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন সংক্রান্ত বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় তার উপর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর