পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বিশেষ অধিবেশনকে ঘিরে। সোমবার নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে থাকা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-র শিবির দাবি করেছে, তারাই এখন ‘আসল তৃণমূল’-এর প্রতিনিধিত্ব করছে।
বৈঠকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে হাওড়া মধ্যের বিধায়ক অরূপ রায়কে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যে পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা গিয়েছে, সেই পদে নতুন মুখ আনার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।
শুধু তাই নয়, বিদ্রোহী শিবিরের তরফে আরও ঘোষণা করা হয়েছে যে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
নতুন সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ।। পাশাপাশি ৩০ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে দাবি বিদ্রোহী শিবিরের।
নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাবিনা ইয়াসমিন। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামান খানকে।
বিশেষ অধিবেশনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল মঞ্চসজ্জা। বৈঠকের ব্যানারে তৃণমূলের প্রতীক থাকলেও মমতা বা অভিষেকের কোনও ছবি ছিল না। পরিবর্তে সেখানে স্থান পেয়েছে গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ, আম্বেদকরের ছবি। এই প্রতীকী পরিবর্তনও রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, বৈঠকে বিভিন্ন জেলার জনপ্রতিনিধি, প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়কেরা উপস্থিত ছিলেন। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, বহরমপুর, দমদম, উত্তরপাড়া-সহ একাধিক এলাকার নেতাদের অংশগ্রহণ বিদ্রোহী শিবিরের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের প্রচেষ্টা বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক শুধুমাত্র সাংগঠনিক পুনর্গঠন নয়, বরং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ের নতুন অধ্যায়। তবে বিদ্রোহী শিবিরের ঘোষিত সিদ্ধান্তগুলি কতটা সাংগঠনিক বা আইনি স্বীকৃতি পাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সব মিলিয়ে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান ঘোষণা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার দাবি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে মূল তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া এবং এই দ্বন্দ্বের রাজনৈতিক প্রভাবের দিকেই নজর থাকবে।



