শিক্ষার নামে বেআইনি কার্যকলাপ চলবে না! অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের পথে মন্ত্রী ক্ষুদিরাম

দায়িত্ব নিয়েই কড়া বার্তা ক্ষুদিরাম টুডুর, অনুমোদনহীন মাদ্রাসা ও জাল জাতিগত শংসাপত্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যে দায়িত্ব নেওয়ার পরই কড়া বার্তা নতুন মন্ত্রীর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে কোনও বেআইনি কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না—এই স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিলেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। অনুমোদনহীন বা নিয়মভঙ্গ করে চালানো মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। একইসঙ্গে জাল জাতিগত শংসাপত্রের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

রানিবাঁধের বিধায়ক তথা সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত এই মন্ত্রী একসঙ্গে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর—ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ, মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স এবং মাদ্রাসা এডুকেশন—এর দায়িত্ব পেয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি কার্যত ‘অ্যাকশন মোডে’। তাঁর কথায়, শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা সরকারের অগ্রাধিকার।

পেশায় শিক্ষক হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তাঁর অবস্থান আরও স্পষ্ট। ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছেন, মাদ্রাসা শিক্ষাও রাজ্যের মূল শিক্ষা কাঠামোর অংশ, ফলে আলাদা নিয়মে তা চলতে পারে না। যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে চলছে, তাদের নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে যদি দুর্নীতি, অনিয়ম বা বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠে, সেক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনুমোদনহীন বা নিয়মবহির্ভূতভাবে চলা কিছু মাদ্রাসা নিয়ে অভিযোগ এসেছে। কোথাও ছাত্রসংখ্যার অমিল, কোথাও নথিপত্রে অসঙ্গতি, আবার কোথাও পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নথিও খতিয়ে দেখা হবে।

শুধু মাদ্রাসা শিক্ষা নয়, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর নিয়েও কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ভুয়ো এসটি বা এসসি শংসাপত্র দেখিয়ে প্রকৃত উপভোক্তাদের অধিকার কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। জাল শংসাপত্র ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেছেন, ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট দপ্তরের লক্ষ্য আদিবাসী সমাজের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর সংরক্ষিত শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ ও সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেয়। মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স দপ্তর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নমূলক প্রকল্প তদারকি করে এবং মাদ্রাসা এডুকেশন দপ্তর রাজ্যের মাদ্রাসাগুলির স্বীকৃতি ও শিক্ষার মান রক্ষা করে।

সব মিলিয়ে, নতুন মন্ত্রীর বার্তা স্পষ্ট—সরকারি সুবিধা প্রকৃত মানুষের কাছেই পৌঁছতে হবে। বেআইনি চক্র বা ভুয়ো নথির মাধ্যমে সেই অধিকার দখলের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। আইন মেনেই চলবে শিক্ষা ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত