প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহের আইনি সঙ্কট আরও গভীর হল। সরকারি আবাস যোজনায় কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর এবার তাঁর বিরুদ্ধে নতুন মামলা যুক্ত হয়েছে। বুধবার কোচবিহারের আদালতে পেশ করা হলে জামিনের আবেদন খারিজ করে আগামী ২৯ জুন পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
কয়েকদিন আগে সরকারি আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহকে। ১৮ জুন তাঁকে প্রথমবার আদালতে তোলা হলে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আদালত চত্বরে উপস্থিত বিক্ষোভকারীদের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে।
সেই সময় আদালত তাঁকে ছয় দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল। ওই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বুধবার ফের আদালতে হাজির করানো হয় প্রাক্তন মন্ত্রীকে। তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়, চলতি মামলার সঙ্গে আরও একটি পৃথক অভিযোগ যুক্ত হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, উদয়ন গুহের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৪০৬, ৪২০, ৩৮৪ এবং ১২০-বি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সরকারি আইনজীবীর দাবি, সরকারি আবাস প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি এবার তাঁর বিরুদ্ধে বৃহৎ অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও সামনে এসেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সামাজিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে দিনহাটার সাধারণ মানুষ, শিক্ষক এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে বেশি টাকা নেওয়া হলেও কম টাকার রসিদ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারী মহলের বক্তব্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু মানুষের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই নতুন মামলাটি যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই মামলায় মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, অর্থ সংগ্রহ এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও তথ্য ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
বুধবার আদালতে শুনানির সময় উদয়ন গুহ তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে জামিনের আবেদন জানান। তবে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি। পরিবর্তে তাঁকে আগামী ২৯ জুন পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিনও আদালত চত্বরে উত্তেজনা দেখা যায়। উদয়ন গুহকে আদালতে আনার সময় একদল বিক্ষোভকারী তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। ফলে আদালত ও তার আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ এবং নতুন মামলার সংযোজনের ফলে তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী দিনে তদন্তে নতুন কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।



