দুর্গাপুজোর আগে সরকারি বিজ্ঞাপনে দুর্গার ছবি ঘিরেই শুরু হল রাজনৈতিক তরজা। সংবাদপত্রে প্রকাশিত রাজ্য সরকারের বিজ্ঞাপনে দশভুজার বদলে একাদশভুজা দুর্গা দেখা যাওয়ায় বিজেপি সরকারকে নিশানা করেছে বিরোধী তৃণমূল ও সিপিএম। বিষয়টি নিয়ে শাসকদলকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এবং সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ (Shatarup Ghosh)। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) অবশ্য বিষয়টিকে বিজ্ঞাপন সংস্থার ভুল বলে দাবি করেছেন।
সোমবার দুর্গাপুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। তার আগে সকালে একাধিক সংবাদপত্রে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে দুর্গাপুজো উপলক্ষে বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। ‘প্রস্তুতি ও সমন্বয় বৈঠক’-এর আহ্বান জানিয়ে প্রকাশিত সেই বিজ্ঞাপনের একেবারে উপরে ছিল দুর্গার একটি ছবি। আর সেই ছবিতেই দেখা যায় ১১টি হাত।
বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ্যে আসার পর দ্রুত তা নিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হয় বিরোধীরা। বেলেঘাটা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বিজ্ঞাপনের ছবিটি পোস্ট করে প্রশ্ন তোলেন, যে সরকারের তরফে দুর্গাপুজোর থিম নিয়ে নানা বিধিনিষেধের কথা বলা হচ্ছে, তাদেরই সরকারি বিজ্ঞাপনে কী ভাবে দশভুজা দুর্গা একাদশভুজা হয়ে গেল?
কুণালের কটাক্ষ, ‘‘দশভুজা ২০২৬-এ একাদশভুজা হয়ে গেলেন কোন শাস্ত্র অনুসারে?’’ তাঁর বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সরকারি বিজ্ঞাপনের ভুলকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ শানানো হয়।
কালীঘাট তৃণমূলের তরফেও এই ঘটনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দুর্গাপুজো শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, বাংলার আবেগ ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। বিজ্ঞাপনের ভুলকে সামনে রেখে বিজেপি সরকার বাংলার সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সিপিএমও অবশ্য এই সুযোগ ছাড়েনি। সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বিজ্ঞাপনের ছবিটি পোস্ট করে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, দেবতারা দুর্গাকে অসুরবধের জন্য দশ হাতে অস্ত্র দিয়েছিলেন। আর বিজেপি সরকারের তরফে নাকি ‘এক্সট্রা হাত’ দেওয়া হয়েছে—পুজোর সময় বাঙালিকে আমিষ খাবার থেকে দূরে রাখার কোনও নির্দেশ এলে তার প্রতিবাদ করার জন্য!
দুর্গাপুজোর আগে আমিষ-নিরামিষ বিতর্ক এমনিতেই রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন পুজোর সময় মন্দির চত্বরে আমিষ খাবার বিক্রির বিরোধিতা করেছে। পাশাপাশি পুজোর থিম নিয়েও বিভিন্ন বিধিনিষেধের দাবি ও পাল্টা বক্তব্য সামনে এসেছে। সেই আবহেই সরকারি বিজ্ঞাপনের দুর্গার ছবি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিজ্ঞাপনে দুর্গার ছবির দু’পাশে ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি। সোমবার বিকেল ৪টেয় মিলন মেলা প্রাঙ্গণে দুর্গাপুজো কমিটিগুলির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা। তার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের ছবিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে বিজ্ঞাপনের ভুল নিয়ে এখনও রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর বা প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অবশ্য দুপুরে সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, বিষয়টি সম্ভবত বিজ্ঞাপন সংস্থার ত্রুটি। তাঁর দাবি, এই ভুল সংশোধন করা সম্ভব এবং তা নিয়ে রাজনীতি করার কোনও কারণ নেই।
তবে বিতর্ক থামানোর বদলে খানিক রসিকতার সুরেই শমীকের মন্তব্য, ‘‘মা আরও শক্তিশালী হয়ে গিয়েছেন।’’ ফলে একটি বিজ্ঞাপনের ছবিতে দুর্গার একটি হাত বেশি থাকা নিয়েই পুজোর মরসুম শুরুর আগেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন চাপানউতোর।




