অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে কেন্দ্রের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গুজরাট সফর থেকে তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সীমান্ত পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য বদল এসেছে। একইসঙ্গে তিনি জানান, ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকরা যদি স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়ে চলে যান, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
অনুপ্রবেশ রোধে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে আগেই জানানো হয়েছিল। সেই আবহেই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে প্রশাসনিক তৎপরতা বেড়েছে। বিভিন্ন জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির কাজও শুরু হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
গুজরাটে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর সীমান্ত পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। তাঁর কথায়, আগে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারী সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকত, এখন উল্টে বহু মানুষ বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, যারা অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করছেন এবং স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে চান, তাঁদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কোনও মামলা দায়ের করবে না। এমনকি সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতাও দেওয়া হবে বলে তিনি দাবি করেন।
এই প্রসঙ্গে পূর্বতন রাজ্য সরকারেরও সমালোচনা করেন শাহ। তাঁর অভিযোগ, আগের প্রশাসনের আমলে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের ভিন্ন মত রয়েছে।
অমিত শাহ আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধুমাত্র দেশের বৈধ নাগরিকদের হাতেই থাকা উচিত। অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকার আপসহীন অবস্থান নিয়েছে বলেও তিনি জানান।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ ইস্যু নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব এবং অবৈধ বসবাসকারীদের নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের পদক্ষেপ আগামী দিনে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এসেছে। বাস্তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, আইনগত বিধান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশিকার ভিত্তিতেই অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।



