ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কি সত্যিই শেষ? গত কয়েক দিন ধরে এই প্রশ্নেই সরগরম ছিল ফুটবল বিশ্ব। কিন্তু উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে সব বিতর্ককে এক ঝটকায় উড়িয়ে দিলেন পর্তুগাল অধিনায়ক। বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল করে গড়লেন এমন এক বিশ্বরেকর্ড, যা হয়তো আগামী বহু বছর অক্ষতই থাকবে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ কে-র ম্যাচে হিউস্টনে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর বিরুদ্ধে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর রোনাল্ডোর প্রথম একাদশে থাকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক। কিন্তু মাঠে উত্তর দিলেন সিআর সেভেন নিজেই।
ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডান প্রান্ত থেকে জোয়াও ক্যানসেলোর নিখুঁত ক্রস বক্সে ভেসে আসে। সেখানে সবার আগে পৌঁছে হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন রোনাল্ডো। সেই গোলেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান তিনি।
এই গোলের সুবাদে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বিশ্ব ফুটবলের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন ফিফা বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়লেন। ২০০৬ থেকে ২০২৬— টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করে তিনি এমন এক রেকর্ড গড়লেন, যা ভাঙা যে কোনও ফুটবলারের কাছেই কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে।
রোনাল্ডোর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে পর্তুগাল। ১৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নুনো মেন্ডেস। ফ্রি-কিকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রোনাল্ডো। গোটা স্টেডিয়াম অপেক্ষা করছিল তাঁর শটের জন্য। কিন্তু শেষ মুহূর্তে চমক দেন সিআর সেভেন। বল ছেড়ে দেন মেন্ডেসকে। দুর্দান্ত শটে গোল করে পর্তুগালকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর উজবেকিস্তানও আক্রমণে ঝাঁপায়। ১৯ মিনিটে শেরজোদ নাসরুল্লায়েভের শক্তিশালী শট দুর্দান্ত দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কোস্তা। সেই সেভ পর্তুগালের দুই গোলের লিড অক্ষুণ্ণ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে নেমেছে পর্তুগাল। ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা, জোয়াও ক্যানসেলো, রাফায়েল লেয়াওদের মতো তারকায় ভরা দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন ৪১ বছর বয়সি রোনাল্ডো। বয়স বাড়লেও তাঁর ক্ষুধা যে একটুও কমেনি, উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে সেই বার্তাই আবার স্পষ্ট হয়ে গেল।
এক সপ্তাহ আগেও যাঁরা বলছিলেন রোনাল্ডো দলের বোঝা, তাঁদের জন্য এই ম্যাচ যেন সরাসরি জবাব। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে লিখে সিআর সেভেন বুঝিয়ে দিলেন, এখনও তাঁর অধ্যায় শেষ হয়নি। বরং ফুটবলপ্রেমীরা হয়তো আরও বহুবার দেখতে চলেছেন সেই বিখ্যাত ‘সিউ’ উদযাপন।









