রেশন কার্ডে বড় বদল, যৌথ পরিবারের সদস্যদের জন্য পোর্টাবিলিটি নিয়ে নতুন নিয়ম

যৌথ পরিবারের সদস্যদের রেশন তোলার নিয়মে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ রাজ্যের। আলাদা এলাকায় বসবাস করলেও এবার একটি নির্দিষ্ট জায়গা থেকেই পরিবারের রেশন সংগ্রহের নিয়ম আনার পথে খাদ্য দফতর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রেশন ব্যবস্থায় ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পশ্চিমবঙ্গে। যৌথ পরিবারের সদস্যরা আলাদা আলাদা জায়গা থেকে নিজেদের রেশন তুলতে পারবেন না—এমনই নতুন নিয়ম কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য খাদ্য দফতর। এতদিন ডিজিটাল রেশন ব্যবস্থার পোর্টাবিলিটি সুবিধায় কর্মসূত্রে বা অন্য কারণে দূরে থাকা পরিবারের সদস্যরা অন্য এলাকার রেশন দোকান থেকেও বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের মাধ্যমে নিজেদের প্রাপ্য খাদ্যসামগ্রী তুলতে পারতেন। নতুন ব্যবস্থায় সেই সুযোগে বদল আসতে চলেছে।

ডিজিটাল রেশন ব্যবস্থা চালুর পর উপভোক্তাদের সুবিধার জন্য রাজ্যে রেশন পোর্টাবিলিটি চালু হয়েছিল। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট একটি রেশন দোকানের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বৈধ কার্ডধারী রাজ্যের অন্য প্রান্তের রেশন দোকান থেকেও নির্দিষ্ট শর্তে নিজের প্রাপ্য খাদ্যসামগ্রী তুলতে পারতেন। সরকারি নথিতেও এই সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে।

বিশেষ করে কাজের সূত্রে এক জেলা থেকে অন্য জেলা কিংবা নিজের বাড়ি থেকে দূরে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য এই ব্যবস্থা যথেষ্ট সুবিধাজনক ছিল। বায়োমেট্রিক বা আধার-ভিত্তিক যাচাইয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রেশন দোকান থেকেই খাদ্যসামগ্রী নেওয়ার সুযোগ ছিল। জাতীয় স্তরেও One Nation One Ration Card ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই হল উপভোক্তার অবস্থান বদলালেও পোর্টাবিলিটির মাধ্যমে খাদ্যশস্য পাওয়ার সুযোগ বজায় রাখা।

এ বার যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থাতেই নিয়ন্ত্রণ আনার উদ্যোগ বলে জানা যাচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের আলাদা আলাদা রেশন ডিলারের কাছ থেকে নিজেদের বরাদ্দ তোলার সুযোগ আর থাকবে না। পরিবারের সদস্যদের রেশন তোলার জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা বা নির্দিষ্ট রেশন দোকানকেই ব্যবহার করতে হবে।

খাদ্য দফতরের এই পদক্ষেপের পিছনে মূল লক্ষ্য হিসেবে রেশন ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ আনার কথা বলা হচ্ছে। একই পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গা থেকে খাদ্যসামগ্রী তুললে বাস্তবে কত পরিমাণ রেশন বিতরণ হচ্ছে, সেই হিসাব এবং পরিবারের সামগ্রিক প্রাপ্যতার উপর নজরদারি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। নতুন ব্যবস্থায় সেই জায়গাতেই নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে।

তবে বিষয়টি বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাঁদের জন্য, যাঁরা যৌথ পরিবারের সদস্য হলেও কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন অন্য এলাকায় থাকেন। এতদিন পোর্টাবিলিটির সুবিধায় তাঁরা নিজেদের অবস্থানের কাছাকাছি রেশন দোকান থেকে খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে পারতেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তাঁদের ক্ষেত্রে রেশন সংগ্রহের পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।

রাজ্যের ডিজিটাল রেশন ব্যবস্থায় ইতিমধ্যেই পরিবার সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট পরিষেবা রয়েছে। পরিবারের স্থান পরিবর্তন, বিয়ে বা পরিবার ভাগের মতো ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রেশন দোকান বা পরিবারের তথ্য পরিবর্তনের সুযোগও রয়েছে।

এ দিকে আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক যাচাইকে রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে খাদ্য দফতর। আগেও বিভাগ জানিয়েছিল, প্রকৃত উপভোক্তার হাতেই যাতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতে Aadhaar-based authentication-এর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ফলে যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে পোর্টাবিলিটি সীমিত করার এই উদ্যোগ বাস্তবে কার্যকর হলে রেশন তোলার নিয়মে সাধারণ মানুষের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে বাড়ির সদস্যরা যদি বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন, তাঁদের আগে থেকেই পরিবারের রেশন ব্যবস্থার নতুন নিয়ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি।

রাজ্যের রেশন ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল নজরদারি, আধার সংযুক্তিকরণ এবং উপভোক্তার তথ্য যাচাইয়ের উপর জোর বাড়ানো হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় যৌথ পরিবারের সদস্যদের রেশন তোলার পদ্ধতিতে এই পরিবর্তন কার্যকর হলে এর প্রভাব পড়বে বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার উপর। তবে নতুন নিয়মের চূড়ান্ত প্রয়োগ, কোন কোন ক্ষেত্রে ছাড় থাকবে এবং ইতিমধ্যে অন্যত্র বসবাসকারী পরিবারের সদস্যদের জন্য কী ব্যবস্থা রাখা হবে—সেগুলি নিয়ে খাদ্য দফতরের স্পষ্ট নির্দেশই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন