এশিয়ার মঞ্চে ফের বড় পরীক্ষার সামনে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC)। মঙ্গলবার, ১৮ অগস্ট, হয়ে গেল ২০২৬-২৭ AFC চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২ (AFC Champions League Two)-এর গ্রুপ পর্বের ড্র। ভারতের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে মূলপর্বে জায়গা করে নেওয়া লাল-হলুদ পড়েছে ‘D’ গ্রুপে। সেখানে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ জর্ডনের আল হুসেন (Al Hussein), ইরাকের আল শোরতা (Al Shorta) এবং ওমানের আল সীব (Al Seeb)। ফলে গ্রুপ পর্বেই হাবাসের দলের সামনে কঠিন এশিয়ান পরীক্ষা।
গ্রুপে জায়গা করে নেওয়ার পথটাও সহজ ছিল না ইস্টবেঙ্গলের। ১২ অগস্ট কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Vivekananda Yuba Bharati Krirangan) কুয়েতের আল-আরাবি এসসি (Al Arabi SC)-কে অতিরিক্ত সময়ে ৪-১ গোলে হারিয়ে মূলপর্বের টিকিট নিশ্চিত করে লাল-হলুদ। সেই জয়ের পরই এশিয়ার দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব প্রতিযোগিতায় ইস্টবেঙ্গলের জায়গা পাকা হয়।
এ বার সামনে তিন আলাদা দেশের তিন প্রতিপক্ষ। জর্ডনের আল হুসেন গত মরশুমে এশিয়ার ক্লাব ফুটবলে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। ইরাকের আল শোরতাও যথেষ্ট অভিজ্ঞ দল। অন্য দিকে ওমানের আল সীবের বিরুদ্ধেও ইস্টবেঙ্গলকে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে। অর্থাৎ গ্রুপে কোনও ম্যাচকেই সহজ বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এ বারের AFC চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ পর্বে পশ্চিম ও পূর্ব এশিয়া মিলিয়ে মোট আটটি গ্রুপ তৈরি হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের দলগুলি রয়েছে A থেকে D গ্রুপে, আর পূর্বাঞ্চলের দলগুলি E থেকে H গ্রুপে। প্রতিটি গ্রুপে চারটি করে দল এবং গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল বাকি তিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলবে।
ইস্টবেঙ্গলের D গ্রুপ তাই সমর্থকদের কাছে বিশেষ আগ্রহের। কারণ তিন প্রতিপক্ষই ভিন্ন দেশের। আল হুসেন জর্ডনের ক্লাব, আল শোরতা ইরাকের এবং আল সীব ওমানের প্রতিনিধি। এশিয়ান ফুটবলের তিন আলাদা ঘরানার দলের বিরুদ্ধে ছয়টি ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে লাল-হলুদকে।
ইস্টবেঙ্গলের জন্য এই অভিযান আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিনিধিদের এশিয়ান মঞ্চে জায়গা পাওয়া সহজ ছিল না। ২০২৬-২৭ মরশুমে ভারতের ক্লাবগুলিকে AFC চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর মূলপর্বে পৌঁছতে বাছাই পর্বের বাধা পেরোতে হয়েছে। ইস্টবেঙ্গল সেই পরীক্ষায় সফল হয়ে এখন গ্রুপ পর্বে।
গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শুরু হবে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে। চলবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হবে নকআউট পর্ব। রাউন্ড অফ ১৬-এর ম্যাচগুলি ৯ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হওয়ার কথা। কোয়ার্টার ফাইনাল হবে ২ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে, সেমিফাইনাল ৬ থেকে ১৪ এপ্রিল এবং ফাইনাল ১৫ মে।
অর্থাৎ ইস্টবেঙ্গলের সামনে এখন শুধু গ্রুপের প্রতিপক্ষ চেনার পালা শেষ নয়, শুরু হচ্ছে দীর্ঘ এশিয়ান অভিযান। যুবভারতীতে আল-আরাবির বিরুদ্ধে দুরন্ত প্রত্যাবর্তনের পর সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই হাবাসের দল কতটা দূর যেতে পারে, তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েক মাসে। D গ্রুপ থেকে পরের রাউন্ডে যাওয়ার লড়াইয়ে প্রতিটি পয়েন্টই যে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, তা বলাই যায়।



