অন্নপূর্ণা যোজনায় ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল, কেন বাদ নাম? ফের আবেদন করবেন কী ভাবে

অন্নপূর্ণা যোজনায় প্রাথমিক যাচাইয়ে ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল। আধার-ব্য়াঙ্ক সংযোগ না থাকা, সরকারি চাকরি ও আয়করদাতা হওয়ার মতো কারণে কেন নাম বাদ গেল এবং ফের আবেদন কোথায় করবেন?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকতে শুরু করতেই সামনে এল বড় চমক। নথি যাচাইয়ের প্রথম ধাপে প্রায় ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল করেছে রাজ্য সরকার। তবে নাম বাদ পড়েছে বলে হতাশ হওয়ার কারণ নেই—ত্রুটি সংশোধন করে ফের আবেদন করার সুযোগ থাকছে। নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার থেকে ২০ অগস্টের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে মাসে ৩,০০০ টাকা করে অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। রাজ্যের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে DBT-এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রাথমিক ভাবে ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদন যাচাই করা হয়েছে বলে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল হওয়ায় আপাতত ১ কোটি ৪৫ লক্ষ আবেদনকারীর জন্য টাকা ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে ১০ জুলাই পর্যন্ত জমা পড়া আবেদনের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ। ফলে এখনও বহু আবেদনের নথি যাচাই বাকি রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যের অসঙ্গতি। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ১৭ লক্ষ আবেদনের মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ ক্ষেত্রেই আধার নম্বরের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ পাওয়া যায়নি। সরকারি প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, সুবিধার টাকা আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে DBT-এর মাধ্যমে পাঠানো হয়।

শুধু আধার-ব্য়াঙ্ক সংযোগের সমস্যাই নয়, আরও কয়েকটি কারণে আবেদন বাতিল হয়েছে। সরকারি চাকরিতে থাকা বা আয়করদাতা হওয়া আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি পশ্চিমবঙ্গের মহিলা বাসিন্দারা এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন, তবে স্থায়ী সরকারি চাকরি বা নিয়মিত সরকারি পেনশন এবং আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রে যোগ্যতার শর্ত রয়েছে।

যাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে, তাঁদের জন্য রয়েছে ফের আবেদনের রাস্তা। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট পোর্টালের ‘Social Registry’ অপশনে গিয়ে সংশোধিত তথ্য দিয়ে নতুন করে আবেদন করা যাবে। সেই আবেদন ফের যাচাই করবেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ। সরকারি প্রকল্পের মূল নিয়ম অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকায় BDO এবং শহরাঞ্চলে SDO-সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক স্তরে আবেদন যাচাই করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

বর্তমানে পুনরায় আবেদন করার পোর্টাল নিয়ে সময়সীমা সংক্রান্ত সরকারি ঘোষণাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নবান্নের সোমবারের সাংবাদিক বৈঠক অনুযায়ী, ২০ অগস্ট থেকে ফের আবেদনের সুযোগ খোলার কথা জানানো হয়েছে। নাম বাদ পড়া নিয়ে অভিযোগ থাকলেও একই পোর্টালের মাধ্যমে তা জানানো যাবে বলে বলা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সরকারি আপডেটে আবেদন ও সংশোধনের সময়সীমা নিয়ে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তাই আবেদনকারীদের সরকারি পোর্টালের সর্বশেষ নোটিস দেখে তবেই আবেদন করা উচিত। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা পোর্টালেই আবেদন ও প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া রয়েছে।

আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ নিয়ে যে সমস্যায় বহু আবেদন আটকে বা বাতিল হয়েছে, সেটি মেটাতেও প্রশাসনকে মাঠে নামানো হচ্ছে। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, BDO-দের ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যা মেটানোর কথা। প্রয়োজনে বিভিন্ন এলাকায় শিবির করে আধার-ব্যাঙ্ক সংযোগের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনের ক্ষেত্রে তাই শুধু ফর্ম পূরণ করলেই হবে না, আবেদনকারীর তথ্যের সঙ্গে সরকারি নথির মিল থাকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র এবং সক্রিয় মোবাইল নম্বর আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে সরকারি পোর্টালে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ দিকে ১১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করেছেন, তাঁদের নথি যাচাই এখনও চলছে বলে নবান্ন জানিয়েছে। এই যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে এই পর্যায়ের আবেদনকারীদের এখনই টাকা না ঢুকলেও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই; যাচাই শেষ হওয়ার পর যোগ্যতা অনুযায়ী সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

অন্নপূর্ণা যোজনার সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, নতুন আবেদনকারীদের অনলাইন আবেদনের ব্যবস্থা রয়েছে। আবেদন যাচাইয়ের পর যোগ্য আবেদনকারীর তালিকা অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়। কলকাতা পুরসভা এলাকার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুর প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা।

সব মিলিয়ে, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়া নিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে আবেদন বাতিলের কারণ। ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল হলেও সংশ্লিষ্টদের জন্য দরজা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। আধার-ব্য়াঙ্ক সংযোগ, সরকারি চাকরি, আয়কর বা অন্য কোনও তথ্যগত ভুলের কারণে নাম বাদ পড়লে তা সংশোধন করে ফের আবেদন করা যাবে। তাই প্রথমেই আবেদন স্ট্যাটাস দেখে বাতিলের কারণ জেনে প্রয়োজনীয় নথি ঠিক করা এবং সরকারি পোর্টালের পরবর্তী নির্দেশ মেনে নতুন করে আবেদন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন