জেলবন্দি পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Imran Khan) শারীরিক অবস্থা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যেই বড় নির্দেশ দিল পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of Pakistan)। মঙ্গলবার আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আদিয়ালা জেল (Adiala Jail) থেকে ইমরান খানকে ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে (Shifa International Hospital) স্থানান্তর করতে হবে। তাঁর চোখের সমস্যা ও সামগ্রিক শারীরিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই এই নির্দেশ।
ইমরানকে হাসপাতালে পাঠানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছিল তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (Pakistan Tehreek-e-Insaf বা PTI) এবং তাঁর পরিবার। তাঁর আইনজীবীরাও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং পছন্দের চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসার সুযোগ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই আবেদনের পরেই শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশ সামনে এল।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ইমরান খানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে স্থানান্তর করার কথা জানিয়েছেন তাঁর মুখপাত্র। শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে তাঁকে অন্তত ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ইমরান খানের চোখের সমস্যা নিয়েই মূলত সাম্প্রতিক উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তাঁর আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছিলেন, জেলে থাকাকালীন তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গিয়েছে। এর আগে আদালত ইমরানের চোখ ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্টও তলব করেছিল। সেই রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ার পরই বিষয়টি ফের গুরুত্ব পায়।
তবে আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্ট ঘিরে ভিন্ন দাবিও সামনে এসেছে। সোমবার জেল কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানিয়েছিল, চিকিৎসার পর ইমরানের চোখের অবস্থা অনেকটাই উন্নত হয়েছে এবং তাঁর দৃষ্টিশক্তি প্রায় স্বাভাবিক। এর ঠিক পরের দিনই শীর্ষ আদালত তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর নির্দেশ দিল।
২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইমরানের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়। ২০২৩ সালের অগস্ট থেকে তিনি জেলবন্দি। একাধিক মামলায় তাঁর সাজাও হয়েছে। যদিও ইমরান খান বরাবরই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও মামলাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে এসেছেন।
ইমরানের পরিবারের তরফেও তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁর দুই ছেলে নিয়মিত বাবার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। PTI-র তরফে বিশেষ করে তাঁর চোখের চিকিৎসা এবং জেলে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন PTI মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি (Zulfiqar Bukhari)। তাঁর বক্তব্য, এই নির্দেশ আরও আগে দেওয়া হলে ইমরানের চোখ ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের এতটা অবনতি নাও হতে পারত। চিকিৎসকেরা সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে হাসপাতালে রাখার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি।
আদালত অবশ্য ইমরানের চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না করা এবং বিষয়টিকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার না করার জন্য তাঁর আইনজীবী ও পরিবারকে নির্দেশ দিয়েছে। ফলে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসার ক্ষেত্রে আপাতত নিয়ন্ত্রণ থাকছে।
তিন বছর ধরে জেলবন্দি ইমরান খানকে এবার কারাগারের বাইরে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র কী, বিশেষ করে চোখের চিকিৎসায় কতটা উন্নতি সম্ভব—তা এখন চিকিৎসকদের মূল্যায়নের উপরই নির্ভর করছে। আপাতত পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে তৈরি দীর্ঘ টানাপোড়েনে বড় মোড় এল।



