নজরবন্দি ব্যুরো: অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান চুরি ও অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে বড় মোড়। উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর চূড়ান্ত রিপোর্টে প্রাক্তন ট্রাস্ট সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং প্রাক্তন ট্রাস্ট সদস্য অনিল মিশ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে। তবে এই রিপোর্টের পরেও তদন্তের বিষয়টি পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে না, কারণ সুপ্রিম কোর্টও মামলাটির অগ্রগতি নিয়ে নজর রাখছে।
উত্তরপ্রদেশের স্বরাষ্ট্র দফতর মঙ্গলবার SIT-এর চূড়ান্ত রিপোর্ট শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের হাতে তুলে দিয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। তিন সদস্যের SIT-এর রিপোর্টে চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রকে অনুদান চুরির মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক ভূমিকার প্রমাণ মেলেনি বলেই রিপোর্টে উঠে এসেছে।
তবে গোটা ঘটনাকে শুধুমাত্র ‘ক্লিনচিট’ শব্দে দেখলে ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পড়বে। কারণ এর আগে প্রকাশ্যে আসা SIT-এর প্রাথমিক তদন্তে মন্দিরের অনুদান গণনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর গাফিলতির কথা বলা হয়েছিল। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ২৫ জুন অযোধ্যা পুলিশের কাছে FIR দায়ের হয় এবং আট জনের নাম অভিযুক্ত হিসেবে সামনে আসে।
FIR-এ যাঁদের নাম রয়েছে তাঁরা হলেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশংকর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশংকর যাদব ওরফে তিনু। তদন্তে তাঁদের মন্দিরের অনুদান সংগ্রহ ও গণনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি সামনে আসে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং দুর্নীতি দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছিল।
প্রাথমিক তদন্তে মন্দিরের অনুদান গণনার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার একাধিক দুর্বলতার কথাও উঠে এসেছিল। প্রকাশ্য হওয়া SIT-এর প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪৫ দিনের CCTV ফুটেজ পরীক্ষা করে গণনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের টাকা লুকিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রায় ৭০টি ঘটনার সন্ধান পেয়েছিল তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রোটোকল যথাযথ ভাবে কার্যকর হয়নি বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল।
অনিল মিশ্রের ভূমিকা নিয়েও প্রাথমিক রিপোর্টে প্রশ্ন উঠেছিল। মন্দিরের অনুদান গণনা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু প্রোটোকলের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনিক ভূমিকার উল্লেখ ছিল। তবে সেই পর্যায়ের রিপোর্টেও তাঁকে FIR-এর আট অভিযুক্তের তালিকায় রাখা হয়নি। পরবর্তী চূড়ান্ত রিপোর্টে তাঁর বিরুদ্ধেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্র দু’জনেই জুন মাসে ট্রাস্টের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। অনুদান চুরির অভিযোগ সামনে আসার পর তদন্তের মধ্যে তাঁদের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিস্তর আলোচনা হয়। পরবর্তী সময়ে ট্রাস্ট তাঁদের পদত্যাগ গ্রহণ করে।
এখানেই শেষ নয়। ১৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) এই মামলায় SIT-কে তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তদন্তকে যৌক্তিক পরিণতিতে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কথাও বলেছে।
ফলে SIT-এর চূড়ান্ত রিপোর্টে চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ভূমিকার প্রমাণ না মেলার খবর তাঁদের জন্য অবশ্যই বড় স্বস্তির। কিন্তু এটিকে আদালতের চূড়ান্ত খালাস বলা যাবে না। অনুদান চুরি ও ব্যবস্থাপনাগত গাফিলতির অভিযোগে যে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছিল, তার পরবর্তী আইনি অবস্থান এবং সুপ্রিম কোর্টে SIT-এর রিপোর্ট কী ভাবে বিবেচিত হয়, এখন সেটিই নজরে থাকবে।



