যোগীকে অযোধ্যা থেকে লড়ার চ্যালেঞ্জ অখিলেশের, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে পাল্টা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে উত্তরপ্রদেশে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হচ্ছে। অযোধ্যা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশ্নে অখিলেশের চ্যালেঞ্জের জবাবে পালটা প্রস্তাব যোগীর, সভা থেকে উঠে এল রাম মন্দির ও উন্নয়নের প্রসঙ্গও।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

উত্তরপ্রদেশের আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি ও সমাজবাদী পার্টির রাজনৈতিক সংঘাত নতুন করে আলোচনায়। অযোধ্যা থেকে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। পালটা জবাবে যোগীও তাঁকে একই আসন থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বলরামপুরের একটি জনসভা থেকে যোগীর এই মন্তব্য ঘিরে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই শাসক বিজেপি ও বিরোধী সমাজবাদী পার্টির মধ্যে রাজনৈতিক তরজা বাড়ছে। অযোধ্যাকে কেন্দ্র করে দুই নেতার এই বাকযুদ্ধের পাশাপাশি উঠে এসেছে রাম মন্দির, উন্নয়ন এবং রাজ্যের অতীতের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ।

দু’দিনের সফরে অযোধ্যায় গিয়েছেন অখিলেশ যাদব। সেখানে ভাগবত কথার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি সাধুদের আশীর্বাদ নেন তিনি। পরে একটি জনসভা থেকে বিজেপি সরকারকে নিশানা করেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান।

অখিলেশের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ যদি নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হন, তা হলে তাঁর অযোধ্যা থেকেই বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উচিত। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

অখিলেশ বলেন, উত্তরপ্রদেশের ভিত্তি ন্যায় ও মানবতার উপর দাঁড়িয়ে। অযোধ্যার মানুষ যোগ্য ও অযোগ্যকে আলাদা করে নেবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যের পরেই যোগী আদিত্যনাথের পালটা প্রতিক্রিয়া সামনে আসে।

বলরামপুরের জনসভা থেকে অখিলেশের চ্যালেঞ্জের জবাব দেন যোগী আদিত্যনাথ। অযোধ্যাকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের জায়গা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, অযোধ্যা তাঁদের কাছে তীর্থস্থান। উন্নয়নের কাজে সেখানে যাওয়া হয়, রাজনীতির জন্য নয়।

এর পরেই অখিলেশকে সরাসরি পালটা প্রস্তাব দেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অখিলেশ যাদব অযোধ্যা থেকে মনোনয়ন জমা দিন, তিনিও মনোনয়ন জমা দেবেন। দু’জনের রাজনৈতিক ভাগ্য পরীক্ষা করে দেখা যাক—এমনই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন যোগী।

অযোধ্যাকে আস্থা, শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের জায়গা হিসেবে উল্লেখ করে যোগী বলেন, এই স্থানকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত। যদিও তাঁর বক্তব্যের মধ্যেই বিরোধী শিবিরের সঙ্গে নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রসঙ্গ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

জনসভা থেকে সমাজবাদী পার্টির পূর্ববর্তী সরকারকেও আক্রমণ করেন যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর অভিযোগ, অতীতে রাজ্যে মাফিয়াদের প্রভাব ছিল এবং ব্যবসায়ীদের ফোন করে হুমকি দেওয়া, সম্পত্তি দখল করার মতো ঘটনা ঘটত।

যোগীর দাবি, ২০১৭ সালের আগে বলরামপুরের রাস্তাঘাটের পরিস্থিতিও অত্যন্ত খারাপ ছিল। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সরকারের আমলে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং রাজ্যে উন্নয়নের কাজ এগিয়েছে।

এগুলি যোগী আদিত্যনাথের রাজনৈতিক বক্তব্য ও পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ। এই দাবিগুলির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সময়ের সরকারি তথ্য ও স্বাধীন পরিসংখ্যান বিবেচনা করা প্রয়োজন।

রাম মন্দির এবং কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের প্রসঙ্গও উঠে আসে যোগীর বক্তব্যে। তাঁর অভিযোগ, এই দুই মন্দিরের নির্মাণে যারা বাধা দিয়েছিল, তারাই এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতা করছে।

কংগ্রেস ও তাদের শরিকদের বিরুদ্ধেও আক্রমণ শানান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক বিরোধিতার ক্ষেত্রে শিষ্টাচার বজায় রাখা প্রয়োজন। অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা দেশের পক্ষে ক্ষতিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাম মন্দিরকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে অযোধ্যা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে যোগী-অখিলেশের বাকযুদ্ধের সঙ্গে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গও জড়িয়ে পড়েছে।

অখিলেশ যাদবের চ্যালেঞ্জ এবং যোগী আদিত্যনাথের পালটা প্রস্তাব ঘিরে উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এই বক্তব্যের ভিত্তিতে দুই নেতা শেষ পর্যন্ত অযোধ্যা থেকে প্রার্থী হবেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। প্রার্থী নির্বাচন, আসন বাছাই এবং দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের উপরেই বিষয়টি নির্ভর করবে।

আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি ও সমাজবাদী পার্টি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরছে। অযোধ্যাকে কেন্দ্র করে দুই নেতার এই বাকযুদ্ধ সেই নির্বাচনী প্রস্তুতিরই একটি উল্লেখযোগ্য দিক। এখন নজর থাকবে, আগামী দিনে দুই শিবিরের তরফে এ নিয়ে নতুন কোনও ঘোষণা আসে কি না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন