বিধানসভা নির্বাচনের আগে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরতে বড় উদ্যোগ নিল কলকাতা পুরসভা। গত ১৫ বছরে শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে কী কী উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য সংকলন করে একটি বিশেষ ‘প্রচার পুস্তিকা’ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, বিভিন্ন বিভাগ থেকে ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করে এই পুস্তিকা তৈরি করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে তা শাসকদল তৃণমূলের কাউন্সিলরদের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে, যা ভোট প্রচারের সময় কাজে লাগানো হবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী এপ্রিল মাসেই ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই আবহেই কলকাতা পুরসভার এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকেই।


পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে এক ঢিলে দুই পাখি মারার কৌশল নেওয়া হয়েছে। কারণ বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস পরই চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ কলকাতা পুরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিধানসভা ভোটের প্রচারের পাশাপাশি পুরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিও এগিয়ে রাখতে চাইছে শাসক শিবির।
এই বিশেষ পুস্তিকায় গত ১৫ বছরে প্রতিটি ওয়ার্ডে বিভিন্ন বিভাগের কাজের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে থাকবে রাস্তা সংস্কার, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি, পানীয় জলের সরবরাহ, আলোকব্যবস্থা, পার্ক নির্মাণ এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন সংক্রান্ত তথ্য।
পাশাপাশি তিন লক্ষ টাকা বা তার বেশি ব্যয়ে বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পকেও আলাদা করে তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিটি ওয়ার্ডে ঠিক কী ধরনের কাজ হয়েছে, তার একটি সুস্পষ্ট চিত্র সামনে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পুরসভার বিভিন্ন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি পুর সচিবালয়ও ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিটি বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করে জমা দিতে। পরে সেই তথ্য সংকলন করে আলাদা আলাদা পুস্তিকা তৈরি করা হবে।
সূত্রের খবর, এই পুস্তিকাগুলি পুর সচিবালয়ের উদ্যোগেই প্রকাশ করা হবে এবং কয়েক হাজার কপি ছাপানো হতে পারে। এরপর তা কাউন্সিলরদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা এলাকার ভোটারদের কাছে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরতে পারেন।
অতীতেও নির্বাচনের আগে কলকাতায় হওয়া গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কাজ এবং নাগরিক পরিষেবার বিবরণ তুলে ধরে একটি বই প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে এ বারের উদ্যোগ অনেক বেশি বিস্তৃত এবং বিস্তারিত তথ্যভিত্তিক বলেই জানা গিয়েছে।
পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সম্প্রতি একটি নির্দেশিকা জারি করে প্রতিটি বিভাগকে গত ১৫ বছরে ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়নমূলক কাজের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই পুস্তিকা সরাসরি ভোট প্রচারে ব্যবহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে এখনও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।







