বাংলার নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে এবার বিধানসভার বিরোধী বেঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করল তৃণমূল। একই সঙ্গে চিফ হুইপের দায়িত্বে আনা হল ফিরহাদ হাকিমকে। ডেপুটি বিরোধী দলনেতা পদে জায়গা পেলেন দলের দুই পরিচিত মহিলা মুখ— অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন সরকারের শপথের দিনেই বিরোধী শিবিরের এই শক্তিশালী টিম সামনে এনে রাজনৈতিক বার্তা দিল তৃণমূল।
শনিবার সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই বিধানসভায় নিজেদের কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে, বিরোধী দলনেতার আসনে বসছেন বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বিধানসভায় তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।


বিরোধী শিবিরে বড় চমক! বিরোধী দলনেতা শোভনদেব, তৃণমূলের চিফ হুইপ ফিরহাদ

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন শোভনদেব। গত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি পরিষদীয় রাজনীতিতে তাঁর দক্ষতাকে কাজে লাগাতেই এই পদক্ষেপ বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
অন্যদিকে, তৃণমূলের চিফ হুইপ করা হয়েছে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে। কলকাতা বন্দর কেন্দ্র থেকে জয়ী ফিরহাদ দীর্ঘদিন ধরেই দলের অন্যতম মুখ। মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি সংগঠনেও তাঁর প্রভাব যথেষ্ট। এবার বিধানসভায় বিরোধী দলের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছেন তিনি।
ডেপুটি বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অসীমা পাত্র। চৌরঙ্গি কেন্দ্র থেকে জয়ী নয়না দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ বিধায়ক। অন্যদিকে হুগলির ধনেখালি কেন্দ্রের বিধায়ক অসীমাও তৃণমূলের পরিচিত সংগঠক মুখ। দুই মহিলা নেত্রীকে একসঙ্গে এই পদে আনা দলীয় ভারসাম্য এবং নারী নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


নতুন সরকার ক্ষমতায় এলেও বিধানসভার বিরোধী আসনে তৃণমূল যে আগ্রাসী এবং সংগঠিত ভূমিকা নিতে চাইছে, এই ঘোষণায় সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে।







