সরকার বদলের পর প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে চিত্র—একযোগে ৬২ জন WBCS (Exe) আধিকারিককে তলব এবং মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর (CMO) থেকে ১৬ জনকে সরানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে জোর চাঞ্চল্য নবান্নে। এই পদক্ষেপের পরই রাজ্যজুড়ে জল্পনা, বড়সড় দায়িত্ববণ্টন কি তবে আসন্ন?
সূত্রের খবর, বিশেষ সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব থেকে ডেপুটি সচিব—বিভিন্ন স্তরের একাধিক আধিকারিককে কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। সোমবারই তাঁদের হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই তলব কেবল রুটিন বদলি নয়—বরং নতুন করে দায়িত্ব বণ্টনের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।


একইসঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ১৬ জন আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংযুক্ত নোটিফিকেশন অনুযায়ী, এঁরা এতদিন CMO-তে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। এখন তাঁদের নতুনভাবে পোস্টিং দেওয়া হতে পারে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।
সরকার গঠনের পরেই প্রশাসনে বড় রদবদল, ৬২ WBCS অফিসারের বদলি, CMO-থেকে বিতাড়িত ১৬ জন

এই রদবদলের মাঝেই আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ—তৃণমূলপন্থী সরকারি কর্মচারী সংগঠনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েককে বদলি করে দার্জিলিঙের বিজনবাড়িতে পাঠানো হয়েছে। আগে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরে যুক্ত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সদ্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক টিম গঠন শুরু করেন। ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে শান্তনু বালা এবং উপদেষ্টা হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত আমলা সুব্রত গুপ্তকে নিয়োগ করা হয়েছে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক পুনর্গঠন একপ্রকার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিশেষ করে, যাঁরা পূর্বতন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব বা ওএসডি ছিলেন, তাঁদের বড় অংশকেই নতুনভাবে পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে।
এদিকে, নতুন মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন, তবে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার শপথ হতে পারে আগামী সোমবার। সেই দিনই দফতর বণ্টনের ছবি স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, লোক ভবনে রাজ্যপালের উপস্থিতিতে নতুন মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ হতে পারে। এরপর নবান্নেই বসতে পারে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক।







