রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের আবহে প্রশাসনিক স্তরেও শুরু হল অস্বস্তির ইঙ্গিত—শপথ গ্রহণের দিনেই ফিরহাদ হাকিম-এর হঠাৎ সিদ্ধান্তে চাঞ্চল্য ছড়াল কলকাতা পুরসভায়। কোনও পূর্বঘোষণা বা ব্যাখ্যা ছাড়াই পুরসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
পুরসভা সূত্রে জানা যাচ্ছে, ওয়ার্ডভিত্তিক কাজের সমন্বয় ও নির্দেশ পৌঁছে দিতে মেয়রের নেতৃত্বে বেশ কিছু অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ সক্রিয় ছিল। শনিবার সকালে সেইরকম দু’টি গ্রুপ থেকেই আচমকাই ‘লেফট’ করেন মেয়র। গ্রুপে থাকা কর্মী ও আধিকারিকদের অনেকেই এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত। কেন এমন পদক্ষেপ—তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা এখনও মেলেনি।


এই ঘটনার সময়কালও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। একই দিনে ব্রিগেড ময়দানে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তারই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক স্তরে এই ধরনের নীরব পরিবর্তনকে অনেকেই বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। কলকাতার একাধিক ওয়ার্ডে প্রত্যাশার তুলনায় খারাপ ফল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তর থেকে দক্ষিণ—বিভিন্ন এলাকায় ভোটের ফলাফল স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক সমীকরণের বদল নির্দেশ করছে। এই প্রেক্ষাপটে পুরসভার অন্দরে অনিশ্চয়তা ও জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে।
প্রসঙ্গত, নিয়ম অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে নতুন সরকার চাইলে বোর্ড ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের পথও খোলা। এই সম্ভাবনার মাঝেই মেয়রের হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।









