পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের ইঙ্গিত। একদিকে সদ্য শপথ নেওয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে বিরোধী দলনেত্রীর ভূমিকায় ফিরতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, উপনির্বাচনের মাধ্যমে ফের বিধানসভায় ফিরতে চলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আর তা হলে বহু প্রতীক্ষিত শুভেন্দু বনাম মমতার লড়াই ফের সরাসরি দেখা যাবে বিধানসভার অন্দরে।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে বাংলায় প্রথম বার সরকার গঠন করেছে বিজেপি। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই আবহেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা শুরু হয়েছে।


সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদে দেখা যেতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দলের অন্দরে ইতিমধ্যেই সেই সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, বিরোধী দলনেত্রী মমতা? ফের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মুখোমুখি গুরু শিষ্য!

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কোন আসন থেকে বিধায়ক হয়ে ফিরবেন মমতা?
জল্পনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের নাম। ওই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, প্রয়োজনে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন এবং সেই আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


তবে সেটাই একমাত্র সম্ভাবনা নয়। বিজেপির অন্দরের জল্পনা অনুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর— দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হবে। যদি শুভেন্দু ভবানীপুর আসনটি ছেড়ে দেন, তা হলে সেই কেন্দ্র থেকেও উপনির্বাচনে লড়তে পারেন মমতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু এবং বিরোধী নেত্রী মমতা— এই সমীকরণ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। নন্দীগ্রামের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সংঘর্ষের পর এবার বিধানসভাতেই ফের মুখোমুখি হতে পারেন বাংলার দুই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।
যদিও তৃণমূল বা বিজেপি— কোনও দলই এখনও এই সম্ভাবনা নিয়ে সরকারি ভাবে মুখ খোলেনি। তবে রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই— মমতা কি সত্যিই ফিরছেন বিধানসভায়?







