সিগারেট ছাড়তে সাহায্য করতে পারে রান্নাঘরের এই মশলা! জানুন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ধূমপানের নেশা কমাতে সাহায্য করতে পারে গোলমরিচ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাস বদলালেই সিগারেট ছাড়ার পথ হতে পারে সহজ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ধূমপান যে শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, তা প্রায় সকলেরই জানা। তবুও নিকোটিনের আসক্তির কারণে সহজে সিগারেট ছাড়তে পারেন না অনেকেই। ধূমপান বন্ধ করার চেষ্টা করলেই দেখা দেয় অস্থিরতা, খিটখিটে মেজাজ, মাথাব্যথা কিংবা বারবার সিগারেট খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নাঘরে থাকা একটি সাধারণ মশলা এই নেশা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে। সেই মশলাটি হল গোলমরিচ।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, গোলমরিচের ঝাঁঝালো গন্ধ ও তীব্র স্বাদ অনেক সময় মস্তিষ্ককে অন্যদিকে ব্যস্ত রাখতে সাহায্য করে। ফলে সিগারেট খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা সাময়িকভাবে কমতে পারে। কিছু গবেষণাতেও দেখা গিয়েছে, গোলমরিচের গন্ধ নেওয়া বা স্বাদ গ্রহণ করলে ধূমপানের প্রতি আকর্ষণ কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।

অনেকেই সিগারেটের বদলে মুখে কিছু রাখতে চান। সেই ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ গোলমরিচ চিবিয়ে খাওয়া উপকারী হতে পারে। কেউ কেউ আবার গরম জলে গোলমরিচ দিয়ে চা তৈরি করে পান করেন। এতে মুখ ও মস্তিষ্ক কিছুটা ব্যস্ত থাকে, ফলে ধূমপানের চিন্তা কম মাথায় আসে। তবে অতিরিক্ত গোলমরিচ খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। কারণ এতে পেটে জ্বালা, গ্যাস বা অস্বস্তির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সিগারেট ছাড়তে সাহায্য করতে পারে রান্নাঘরের এই মশলা!
সিগারেট ছাড়তে সাহায্য করতে পারে রান্নাঘরের এই মশলা!

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু গোলমরিচের উপর ভরসা করলে হবে না। ধূমপান ছাড়তে গেলে জীবনযাত্রাতেও পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন বেশি করে জল খাওয়া, ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস বাড়ানো, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা এবং চা বা কফির সঙ্গে সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস বদলানো জরুরি।

এছাড়াও ধূমপান করেন এমন বন্ধুদের সঙ্গে কম সময় কাটানোও সাহায্য করতে পারে। কারণ ধূমপানের ইচ্ছা সাধারণত কয়েক মিনিটের জন্য খুব তীব্র হয়। সেই সময় মন অন্যদিকে সরিয়ে রাখতে পারলে ধীরে ধীরে নেশা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়ে ওঠে।

গোলমরিচ ছাড়াও লবঙ্গ, দারুচিনি, মৌরি কিংবা চুইংগামও অনেকের ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। কেউ কেউ বাদাম, গাজর বা শসা খেয়েও মুখ ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেন। এতে বারবার সিগারেট ধরানোর প্রবণতা কমে।

তবে দীর্ঘদিনের ধূমপানের অভ্যাস থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে নিকোটিন প্যাচ, ওষুধ বা কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধৈর্য ও নিয়মিত চেষ্টাই ধূমপানের নেশা ছাড়ার সবচেয়ে বড় উপায়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত