কলকাতার রাস্তায় গাড়ি পার্ক করলেই হাতে স্লিপ নিয়ে হাজির হয়ে টাকা তোলার ছবি বহুদিনের পরিচিত। কিন্তু সেই স্লিপের বৈধতা নিয়ে বারবার উঠেছে প্রশ্ন। কোথাও রাস্তার দু’ধারে বেআইনি পার্কিং, কোথাও আবার নির্দিষ্ট নিয়ম ছাড়াই আদায় হচ্ছে টাকা। এবার সেই ‘দাদাগিরি’তে কড়া লাগাম টানতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বেআইনি পার্কিং এবং ভুয়ো পার্কিং স্লিপের কারবার আর চলবে না।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পুরমন্ত্রী জানান, কলকাতার রাস্তায় যেখানে পার্কিংয়ের অনুমতি নেই, সেখানে কোনওভাবেই গাড়ি দাঁড় করানো যাবে না। বিশেষ করে রাস্তার দু’ধারে গাড়ি রাখার ফলে যান চলাচল ও পথচারীদের সমস্যা বাড়ছে বলেই মত সরকারের।


অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আজই নোটিস দেওয়া হচ্ছে। রাস্তার দু’পাশে অবৈধ পার্কিং বন্ধ হবে। যেদিকে পার্কিং করার কথা নয়, সেখানে কোনও গাড়ি রাখা যাবে না। এতে সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে।”
শুধু পার্কিং নিয়ন্ত্রণই নয়, ভুয়ো স্লিপ দেখিয়ে টাকা তোলার বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছে পুর দফতর। মন্ত্রীর অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন জায়গায় এমন পার্কিং স্লিপ ব্যবহার করে টাকা আদায় করা হয়, যার কোনও সরকারি বৈধতা নেই এবং সেই অর্থ রাজস্ব দফতরেও জমা পড়ে না।
তিনি স্পষ্ট জানান, “ফেক পার্কিং স্লিপ দিয়ে আর টাকা তোলা যাবে না।” পাশাপাশি পার্কিং ফি নিয়েও নির্দিষ্ট নিয়ম আনার কথা ঘোষণা করেছেন পুরমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “যে কেউ নিজের ইচ্ছেমতো টাকা নিতে পারবেন না। একটি নির্দিষ্ট রেট চার্ট তৈরি করা হবে। সেই অনুযায়ীই টাকা নেওয়া যাবে।”


কলকাতায় বেআইনি পার্কিং নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। ব্যস্ত রাস্তা থেকে অলিগলি— প্রায় সর্বত্রই রাস্তার ধারে গাড়ি দাঁড় করানোর ফলে যানজট ও পথচারীদের সমস্যার সৃষ্টি হয়। এর আগেও রাস্তার ধারের পার্কিং নিয়ে পদক্ষেপ করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, গত বছর তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সকালে দু’ঘণ্টার জন্য রাস্তার ধারের পার্কিং বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মূলত আবর্জনা পরিষ্কারের সুবিধার্থেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এবার অগ্নিমিত্রা পালের নতুন নির্দেশ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর শহরবাসীর।







