কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট ঘিরে চূড়ান্ত উত্তেজনা—মুদ্রাস্ফীতি ও বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে নতুন বেতন কাঠামো আনতে চলেছে কেন্দ্র। আর সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের চোখ এখন রাজ্যের সম্ভাব্য বড় ঘোষণার দিকে, যা বেতন ও ডিএ-র ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।
সূত্রের খবর, নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কমিশনের প্রতিনিধিরা দেশজুড়ে কর্মী সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে বৈঠক সেরে ফেলেছেন তাঁরা। পরবর্তী পর্যায়ে হায়দরাবাদ, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। সব পক্ষের মতামত বিচার করে অগস্টের শেষ নাগাদ রিপোর্ট জমা পড়তে পারে বলে জানা যাচ্ছে।


এই প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের মধ্যে বাড়ছে প্রত্যাশা। প্রশাসনিক সূত্রে জোর জল্পনা, আগামী সোমবার রাজ্য সরকার বেতন কমিশন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে। প্রশ্ন উঠছে—রাজ্য কি সরাসরি কেন্দ্রের অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ গ্রহণ করবে, নাকি নতুন করে রাজ্য বেতন কমিশন গঠন করবে?
রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন কতটা বাড়বে? অষ্টম বেতন কমিশন রিপোর্টের আগে বড় ইঙ্গিত

বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’। অতীতে এই ফ্যাক্টর ছিল ১.৮৬ এবং ২.৫৭। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এবার ১.৯ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রযোজ্য হতে পারে। এই ফ্যাক্টর কার্যকর হলে বেতনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, বর্তমানে ১৮,০০০ টাকা বেসিক বেতন হলে তা বেড়ে প্রায় ৩৪,২০০ টাকায় পৌঁছাতে পারে। আবার পশ্চিমবঙ্গের রোপা ২০১৯ অনুযায়ী লেভেল ৬-এর কর্মীর ২৮,৯০০ টাকা বেসিক বেড়ে প্রায় ৫৪,৯১০ টাকায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।


অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা বর্তমানে ৬০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) পাচ্ছেন, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের কর্মীরা পাচ্ছেন মাত্র ১৮ শতাংশ। এই বিশাল ব্যবধান দূর করতে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যদি রাজ্য সরকার কেন্দ্রের সুপারিশ সরাসরি মেনে নেয়, তাহলে বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে। অন্যদিকে, নতুন রাজ্য বেতন কমিশন গঠন করা হলে কিছুটা সময় লাগলেও দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে, আগামী সোমবারের সম্ভাব্য ঘোষণা রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মীর ভবিষ্যৎ আর্থিক অবস্থার দিক নির্ধারণ করতে পারে।







