পূর্ব বর্ধমান জুড়ে পুলিশের বড়সড় অভিযান—তোলাবাজি, বেআইনি অস্ত্র মজুত ও হুমকির অভিযোগে একযোগে গ্রেপ্তার করা হল ৯ জন তৃণমূল নেতা-কর্মীকে। জেলার একাধিক থানায় চালানো এই সাঁড়াশি অভিযানে ধরা পড়েছেন প্রভাবশালী নেতারাও, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহর, রায়না, জামালপুর, কাটোয়া ও কালনা—এই পাঁচটি এলাকায় পৃথক অভিযানে ধৃতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন জেলা তৃণমূলের দুই সাধারণ সম্পাদক শিবশঙ্কর ঘোষ ও বাবুলাল শেখ।
বর্ধমান শহরে বিজেপি কর্মী মুকুল নন্দীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হন শিবশঙ্কর ঘোষ। অভিযোগ, ১০ লক্ষ টাকা তোলা চেয়ে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। যদিও শিবশঙ্কর সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, জামালপুর থানার পুলিশ অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি শেখ শাহাবুদ্দিন, তাঁর চালক ও এক আইএনটিটিইউসি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। একইভাবে রায়না থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ-সহ এক তৃণমূল কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
কাটোয়া এলাকায় দখলদারি ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বাবুলাল শেখ ও তাঁর দুই ভাই। অভিযোগ, জোর করে জমি দখল করে ক্লাবঘর নির্মাণ এবং জমি ফেরত চাইলে মোটা টাকা দাবি করা হয়েছিল। পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
এছাড়া কালনা থেকেও আগ্নেয়াস্ত্র-সহ এক পঞ্চায়েত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ছ’টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁদের কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, পুলিশ এখন স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই মূল লক্ষ্য।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অপরাধ দমনে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের পদক্ষেপ চলবে। গোটা ঘটনায় পূর্ব বর্ধমান জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।



