চোরবাগানে ১৬৩ ধারা জারি, পদপিষ্টের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭, অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা

পদপিষ্টের ঘটনার তদন্তে পুজো কমিটির পদাধিকারী, ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ও বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই কর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করল কলকাতা পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-সহ চোরবাগান সংলগ্ন একাধিক এলাকায় তিন দিনের জন্য জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে পুজো কমিটির পদাধিকারী-সহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজার। তাঁদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কলকাতা পুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কয়েকটি রাস্তার অংশে পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। দুর্ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কীভাবে পুজোমণ্ডপে এত বড় বিপর্যয় ঘটল, ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তদন্তে সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চোরবাগান দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার সাতজন কারা?

পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ধৃতদের নাম রাজকুমার সেওদা ওরফে রাজা, শান্তনু দুবে, বিপ্লব মুখোপাধ্যায়, কৌশিক সাহা, পিন্টু দে, সুমন চক্রবর্তী এবং রাজেশ পাল।

ধৃত রাজকুমার সেওদা চোরবাগান পুজো কমিটির সম্পাদক এবং শান্তনু দুবে সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পুজোমণ্ডপের বাঁশের কাঠামো তৈরির দায়িত্বে ছিলেন বিপ্লব মুখোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, কৌশিক সাহা ও পিন্টু দে-র দায়িত্ব ছিল ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং ভিআইপি পাস পরীক্ষা করা। সুমন চক্রবর্তী ও রাজেশ পাল একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই কর্তা বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তের স্বার্থে এর আগে পুজো উদ্যোক্তা-সহ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছিল পুলিশ। তাঁদের বক্তব্য ও ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবর।

তবে গ্রেপ্তার হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে যাওয়া নয়। তদন্তের পরেই ঘটনার জন্য কার কী ভূমিকা ছিল, তা স্পষ্ট হবে।

কোন কোন এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি?

চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর এলাকায় যাতে নতুন করে ভিড় বা জমায়েতের কারণে সমস্যা তৈরি না হয়, সে জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে লালবাজার। কলকাতা পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বউবাজার থানা এলাকার চোরবাগান পুজোমণ্ডপের আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার অংশ এই নির্দেশের আওতায় রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে—

  • কলেজ স্ট্রিটের কলুটোলা স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল রোড পর্যন্ত অংশ।
  • চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের কলুটোলা স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল রোড পর্যন্ত অংশ।
  • কলুটোলা স্ট্রিটের কলেজ স্ট্রিট থেকে সিআর অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ।
  • ইডেন হাসপাতাল রোডের সিআর অ্যাভিনিউ থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত অংশ।

এ ছাড়া সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-সহ চোরবাগান সংলগ্ন এলাকায় জমায়েতের উপর কড়াকড়ি জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী তিন দিনের জন্য জারি করা হয়েছে বলে পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনার পর গিরিশ পার্ক থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগ-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (Bharatiya Nyaya Sanhita) একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

পুলিশের তদন্তে দুর্ঘটনার আগে ও পরে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, মণ্ডপের প্রবেশ ও বেরনোর পথ কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা কী পদক্ষেপ করেছিলেন, সেই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছিলেন বলে আপনার দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। তার পরেই তদন্ত ও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া আরও এগোয়। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, তদন্তের ফল এবং আদালতে প্রমাণের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে।

পদপিষ্টের ঘটনার পর চোরবাগান এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি জমায়েত নিয়ন্ত্রণে নজরদারি চালানো হচ্ছে। উৎসবের সময়ে ওই এলাকায় যাতে ফের অতিরিক্ত ভিড় তৈরি না হয়, সে দিকেও নজর রাখছে প্রশাসন।

চোরবাগানের ঘটনা পুজোমণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও প্রস্থানের পথের নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার গুরুত্ব সামনে এনেছে। তবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে বিপর্যয় ঘটেছিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথাও গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisementspot_img

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর