চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত ১৭, আহত ২৫, দুর্ঘটনার কারণ খুঁজবে সরকার, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে ঢোকার হুড়োহুড়ি থেকেই দুর্ঘটনা বলে প্রাথমিক অনুমান। আপাতত বন্ধ চোরবাগানের পুজো মণ্ডপ, নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ পুলিশের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দুর্গাপুজোর আনন্দের মধ্যেই উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে নেমে এল শোকের ছায়া। শনিবার সন্ধ্যায় সেখানে পদপিষ্টের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহত ২৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল। বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে প্রবেশের জন্য হুড়োহুড়ি থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটল, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। প্রশাসনের তরফে ঘটনার পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শনিবার রাতে একটি সংবাদমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আহতদের চিকিৎসা এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই এই মুহূর্তে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ছ’জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আহতদের উন্নততর চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর কীভাবে এত বড় বিপর্যয় ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনও সমস্যা ছিল কি না, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ কতটা নিরাপদ ছিল এবং বৃষ্টির মধ্যে দর্শনার্থীদের চলাচল কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল—তদন্তে এই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট কারণকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং করা হবে এবং দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে দেখা হবে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, দমকল এবং ফরেনসিক দলের যাওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে। আপাতত চোরবাগানের পুজো মণ্ডপ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রয়েছে।

চোরবাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কলকাতার অন্য পুজো কমিটিগুলিকেও সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে থিম পুজোর মণ্ডপ এবং যেখানে দর্শনার্থীদের ভিড় অত্যন্ত বেশি, সেখানে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নতুন করে খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কোনও মণ্ডপে নিরাপত্তার ঘাটতি বা সমস্যা চোখে পড়লে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট জায়গা সাময়িকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখার কথাও বলেছেন তিনি। পুলিশকেও বিভিন্ন মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্গাপুজোর ভিড়ে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, চোরবাগানের দুর্ঘটনা তা আবার সামনে এনে দিয়েছে। আপাতত মৃতের সংখ্যা ১৭ এবং আহতের সংখ্যা ২৫ বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আহতদের চিকিৎসা চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক অনুসন্ধানের অপেক্ষা।

চোরবাগানের মণ্ডপে ঠিক কী পরিস্থিতিতে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছিল, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ঘাটতি ছিল কি না এবং কারও গাফিলতি পাওয়া যায় কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের পরেই।

প্রকাশের আগে আপডেট: মৃত ও আহতের সংখ্যা, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা এবং মণ্ডপের বর্তমান পরিস্থিতি প্রকাশের ঠিক আগে প্রশাসনিক সূত্র থেকে ফের যাচাই করে নিন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisementspot_img

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর