বাংলায় কবে চালু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC)? বড় ইঙ্গিত বিজেপি সভাপতি শমীকের

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বড় বার্তা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য এক আইনেই জোর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি নিয়ে ফের জোরালো হল রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে বড় বার্তা দিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকার চাইলে যে কোনও সময় বাংলায় চালু হতে পারে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। কারণ, আইনের চোখে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই সমান।

সাংবাদিক বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আইনের কাছে কেউ আলাদা নন। সকলের জন্য একই আইন হওয়া উচিত।” বিজেপির দাবি, ইউসিসি চালু হলে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ-সহ সব ধর্মের মানুষ একই পারিবারিক ও উত্তরাধিকার আইনের আওতায় আসবেন। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তির অধিকার এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত নিয়মও তখন সবার জন্য এক হবে।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার সারা দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের পক্ষে সওয়াল করেছেন। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই এটিকে তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরছে।

তবে ইউসিসি নিয়ে বিতর্কও কম নয়। বিরোধীদের প্রশ্ন, যদি বিভিন্ন সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে আইনের বাইরে রাখা হয়, তাহলে তাকে কীভাবে ‘অভিন্ন’ বলা যায়? এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানিয়েছিলেন, দেশের আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বজায় রাখতেই তাঁদের এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ড, গোয়া এবং গুজরাটে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হয়েছে। অন্যদিকে অসমেও ইউসিসি নিয়ে খসড়া তৈরির কাজ চলছে। বুধবার অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, পাহাড় ও সমতলের আদিবাসী গোষ্ঠীগুলিকে ইউসিসির বাইরে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অসমের বিভিন্ন ঐতিহ্য ও রীতিনীতিকেও সুরক্ষা দেওয়া হবে।

সূত্রের খবর, অসম মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর চলতি মাসের শেষদিকে সেখানে ইউসিসির খসড়া বিল বিধানসভায় পেশ করা হতে পারে। এর মধ্যেই বাংলায় ইউসিসি চালুর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

এখন দেখার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই বিষয়ে কী অবস্থান নেয় এবং আদৌ রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার দিকে কোনও পদক্ষেপ করা হয় কি না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত